একাকিত্বই শক্তি
বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা একাকিত্ব সম্পর্কে বলেছেন-
একা হও, একাকিত্বই উদ্ভাবনের গোপন শক্তি, একা হও, একাকিত্ব থেকেই শক্তিশালী আইডিয়ার জন্ম হয়।
আমরা যখন একা থাকি কেবল তখনই আমাদের নিজেদের পক্ষে নিজের সম্পর্কে জানতে পারি। কেবল একা থাকার সময়ে আমরা সবচেয়ে বেশি পার্সোনাল স্কিল গ্রো করতে পারি।
একাকিত্বের সময়টাকে নিজেকে গড়ে তোলার একটি সুযোগ হিসাবে দেখুন। একাকিত্বের সময় নিজের ভিতরে মনোযোগ দিন। এই সময় নিজের যত্ন নিন। নিজের লাইফকে সুন্দর করার জন্য পরিকল্পনা করুন। একাকিত্ব হলো পার্সোনাল ডেভেলপমেন্টের সেরা সুযোগ।
আপনি তখনই নিজেকে ভালোবাসতে সক্ষম হবেন যখন আপনি নিজেকে গ্রহণ করতে পারবেন। হ্যাঁ, আপনার কিছু দুর্বলতা বা ভুল থাকতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন আপনি নিজেকে গ্রহণ করে নিবেন তখনই আপনি নিজেকে ভালোবাসতে সক্ষম হবেন। নিজেকে ভালোবাসুন। নিজেকে ভালোবাসতে পারলে আপনি সবাইকেই ভালোবাসতে পারবেন। যে নিজেকে ভালোবাসে না সে কাউকেই ভালোবাসতে পারে না।
একা থাকলেও জনবিচ্ছিন্ন হবেন না। মানুষকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। কারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকলে আপনি মানুষকে বুঝতে পারবেন না। মানুষকে বুঝতে হলে মানুষের সাথে থাকতে হবে। এই কাজটি আপনি ক্লাসরুমে অথবা একটি রেস্টুরেন্টে বসে কফি খেতে খেতেও করতে পারেন। এইটা ঝামেলার বিষয় না, বরং বেশ মজার একটি কাজ। মানুষ খুব ইন্টারেস্টিং একটা প্রাণী।
একাকিত্বকে দুর্বলতা হিসাবে দেখবেন না, এটি এমন একটি অবস্থা, যা আপনাকে শক্তিশালী করে তোলে, একাকীত্বই আপনার শক্তি।
আপনার নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। কেউ হয়ত আপনাকে হেল্প করতে পারে বা সাপোর্ট করতে পারে তবে কেউ আপনার দায়িত্ব নিবে না। আপনার নিজের জীবন গড়ে তোলার দায়িত্ব কেবল আপনার নিজেরই। আপনি ফেইল করলে কেউ সাফার করবে না। আপনি নিজেকেই তার মূল্য দিতে হবে। একইভাবে আপনি সফল হলেও তার সুফল আপনি নিজেই ভোগ করবেন। কেউ আপনাকে সুখ দিতে পারবে না, তাই সুখের জন্য অন্যের উপর নির্ভর করবেন না। যখন আপনি একা একা সুখী থাকতে পারবেন, তখন আপনি নিজেই অন্যদের সুখ দিতে পারবেন, এবং অন্যরাও আপনার সাথে থেকে সুখী অনুভব করবে।
নিজেকে জানার চেষ্টা করুন। আপনার ভিতরে যে অসীম শক্তি ভাণ্ডার লুকিয়ে রয়েছে তা আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। আপনি হয়ত নিজের সম্পর্কে এমন কিছু জানতে পারবেন যে তাতে বেশ অবাকই হবেন। সক্রেটিস থেকে বুদ্ধ অনেকেই বলে গেছেন "নিজেকে জানুন"। নিজেকে জানার কিছু টেকনিক আছে। এই বিষয়ে একার্ট টোলের 'The Power Of Now' বইটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। পড়ে দেখতে পারেন।
আপনি নিজেকে যত বেশি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন তত বেশি ব্যর্থ হবেন। তার চেয়ে বরং ন্যাচারাল থাকাই ভাল। এতে করে আপনার প্রকৃত বৈশিষ্ট্যই ফুটে উঠে, যা অথেনটিক। অন্যের দেখানো স্টাইল এডপ্ট করার মধ্যে কোনো স্মার্টনেস নেই। যা আপনার ভিতরে অলরেডি আছে, আপনার বিচারবুদ্ধি যা কোনোরকম ভণিতা ছাড়াই প্রকাশ করেন, সেটাই স্মার্টনেস। এতে যে আপনাকে গ্রহণ করবে সে প্রকৃত আপনাকেই গ্রহণ করবে। আর যদি কেউ এপ্রেশিয়েট না করে তাহলে তো আরো ভাল। যে সম্পর্কের শুরুতে কোনো মিথ্যা থাকে না সেটা লং লাস্টিং করে। তাই অলওয়েজ অথেনটিক থাকার চেষ্টা করুন।
যদিও সমাজে চলতে গেলে কমিউনিটির গুরুত্ব রয়েছে, তবে চিন্তার স্বাধীনতা এবং অথেনটিসিটি বজায় রাখতে একা থাকার বিকল্প নেই।
একাকিত্ব মানে হল স্বউন্নতির ক্রয়মূল্য। বর্তমান যুগে একাকিত্ব এফোর্ড করাটাও অনেক এক্সপেন্সিভ। এটা সবাই এফোর্ড করতে পারে না। একাকিত্বকে আপনার পার্সোনাল ডেভেলপমেন্টের একটি সুযোগ হিসাবে নিন। বই পড়ুন অথবা যেকোনো একটি নতুন স্কিল শিখুন। মোটাকথা একাকিত্বকে আপনার জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ সময়ে পরিণত করুন।
পৃথিবী এই মুহূর্তে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করুন যেন আলোর উৎস হতে পারেন। আপনিই পারবেন এই পৃথিবীটাকে অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে আপনাকে ভীষণ প্রয়োজন।
