অর্থনৈতিক শিক্ষা ইম্পর্ট্যান্ট
বিজনেসের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশে বিদ্যালয়গুলোতে অর্থনৈতিক শিক্ষার চর্চা নেই বললেই চলে, এখানে শুধু অ্যাকাডেমিক শিক্ষাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। অর্থনৈতিকভাবে সফল হতে চাইলে আপনাকে প্রথমে অর্থনৈতিক শিক্ষা এবং সম্পদ গড়ে তোলার কৌশলগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। অর্থনৈতিক শিক্ষা বলতে টাকার ব্যবহার, বিনিয়োগ কৌশল, ব্যবসায়িক ঝুঁকি, ইত্যাদি বিষয়গুলোকে বুঝানো হয়।
এই লেখায় আজ আমরা অর্থনৈতিক শিক্ষা এবং সম্পদ গড়ার কৌশলগুলো সম্পর্কে জানবো।
প্রথমত, অ্যাসেট এবং লায়াবিলিটিসের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। অ্যাসেট মানে হলো যেখান থেকে আপনার পকেটে টাকা ঢুকে এবং লায়াবিলিটিস মানে হলো যা আপনার পকেট থেকে টাকা বের করে। লাইফে বেশি বেশি অ্যাসেট গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিন এবং যতটুকু সম্ভব লায়াবিলিটিস কমান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইনভেস্ট করার মাধ্যমে অ্যাসেট গড়ে তুলুন।
ধনীরা টাকার জন্য কাজ করে না, বরং টাকাকে তারা নিজেদের কাজে লাগায়। তারা একটি চাকরি করে মাসিক বেতনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন না, বরং ব্যবসায় বিনিয়োগ করার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আয় করেন।
চাকরির দরকার হলে চাকরি করুন তবে চাকরির পাশাপাশি একটি ছোটখাটো ব্যবসা, অথবা বিনিয়োগ করার মাধ্যমে অ্যাসেট গড়ে তুলুন। আপনার একটি বই অথবা একটি ইউটিউব চ্যানেল হতে পারে আপনার অ্যাসেট।
ভয়কে অতিক্রম করুন। যারা লোকসানকে ভয় পায়, তারা ব্যবসায় সফল হতে পারে না। ব্যবসায় সফল হতে হলে ব্যবসায়িক রিস্ক নিতে হবে। অনেক সময় রিস্ক না নিয়ে বসে থাকাটাও রিস্কের মধ্যেই পড়ে।
আয়কর দেয়ার বিভিন্ন টেকনিক সম্পর্কে ধারণা রাখুন। ধনীরা বৈধ উপায়ে সরকারকে সম্পদের তুলনায় অনেক কম আয়কর দেন। তারা ট্যাক্স ম্যানেজ করার জন্য ডেডিকেটেড একজন অ্যাডভোকেট রাখেন, অথবা "ল ফার্ম" এর সাথে যোগাযোগ রাখেন। যেমন বড় কোম্পানিগুলো সবসময় সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকে। এটা সরকারকে বৈধ উপায়ে আয়কর ফাঁকি দেয়ার একটা টেকনিক।
কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। এটি চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা বৃদ্ধি করে। যত দ্রুত সম্ভব ইনভেস্ট করুন। সময়ের সাথে সাথে এটার মুনাফা বিশাল আকার ধারণ করবে। কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট শুধু টাকার ক্ষেত্রেই নয়, বরং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটার ব্যবহার রয়েছে।
টাকার জন্য নয়, জ্ঞানের জন্য কাজ করুন। দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন। প্রথমে টাকার চেয়ে জ্ঞান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়া যায় না, তবে এটি অদূর ভবিষ্যতে আপনার আর্থিক সফলতার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
ধনীরা মূলত তাদের মাইন্ডসেটের কারণেই ধনী হয়। একইভাবে গরিবরাও তাদের মাইন্ডসেটের কারণে সারাজীবন গরিবই থেকে যায়। তাই গরিব থেকে ধনী হতে হলে প্রথমে আপনার মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হবে। গরিব মাইন্ডসেটের লোকেরা টাকা জিনিসটাকে অনেক গুরুত্ব দেয়, তারা টাকা খরচ করতে ভয় পায়। অন্যদিকে ধনী মাইন্ডসেটের লোকেরা টাকাকে সম্পদ গড়ে তোলার একটি মাধ্যম হিসাবে দেখে। একজন কাঠুরে যেমন গাছ কাটার কাজে তার কুঠার ব্যবহার করে। তেমনি একজন ধনী লোক সম্পদ গড়ার কাজে তার টাকা ব্যবহার করে। যেমন গরিবরা বই কেনাকে টাকা নষ্ট হিসাবে দেখে, কিন্তু ধনীরা এটাকে জ্ঞানের ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে দেখে।
আপনার ইনকামের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রথমে নিজের জন্য সঞ্চয় করে রাখুন। তারপর বাদবাকি অর্থ অন্যান্য খরচের কাজে লাগান। এই অভ্যাসটি গড়ে তোলার মাধ্যমে আপনি সবসময় আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে পারবেন।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতাই হচ্ছে আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্য। যেন আপনাকে টাকার জন্য কারো উপর নির্ভর করতে না হয়। আপনি টাকার জন্য সম্পদ গড়ে তুলবেন না। আপনি সম্পদ গড়ে তুলবেন যেন আপনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে পারেন।
অ্যাসেট হলো এমন একটি জিনিস যা আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও আপনার জন্য ইনকাম করবে। যেমন: ডিজিটাল কন্টেন্ট।
পরিশেষে বলতে চাই, আপনার ব্যক্তিগত খরচের একটি নির্দিষ্ট বাজেট এবং তার হিসাব রাখুন। অর্থনৈতিক শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুন, যেমন: অর্থনৈতিক শিক্ষার কোর্স করা অথবা বই কেনা। রিয়েল স্ট্যাট, স্টক মার্কেট, বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করার মাধ্যমে অ্যাসেট গড়ে তুলার চেষ্টা করুন।
