সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার - ২০২৪
অত্যন্ত কাব্যিক গদ্যভাষায় বেদনাদায়ক অতীত ইতিহাস এবং মানুষ হিশাবে আমাদের জীবনের দূর্বলতাগুলো তুলে ধরার কারণে ২০২৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান ক্যাং।
হান ক্যাংয়ের জন্ম দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে। সেখান থেকে নয় বছর বয়সে তিনি ফ্যামিলির সাথে সিউলে স্থানান্তরিত হন।
তার বাবা একজন নামকরা সাহিত্যিক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বইপত্রের সাথে পরিচিত। তিনি মিউজিক এবং আর্টের প্রতি ভীষণ আগ্রহী। যা তার লেখার মধ্যে বারবার প্রতিফলিত হয়।
তিনি প্রথম কবিতার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে "লিটারেচার এবং সোসাইটি" নামক ম্যাগ্যাজিনে প্রথম তার কবিতা প্রকাশিত হয়। তারপর তিনি ছোটগল্প প্রকাশ করেন। যাতে তার কাব্যিক দক্ষতা ফুটে উঠে। এরপর তিনি সাহিত্যেও তার কাব্যিক দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তার একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্য গ্রন্থ হচ্ছে "ইউর কোল্ড হ্যান্ডস"। যাতে তার আর্টের প্রতি ইন্টারেস্ট থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এই বইটি একজন নিখোঁজ ভাস্করকে নিয়ে লেখা যিনি নারী দেহের আকৃতি প্লাস্টার করার প্রতি আচ্ছন হয়ে পড়েন।
হান ক্যাং মূলত ২০১৫ সালে তার লেখা "দ্য ভেজিট্যারিয়ান" বইটির অনুবাদিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। এই বইয়ের প্রধান চরিত্র ইওয়েং হাই নামের এক বিবাহিত নারী, যিনি এক রাতে হঠাত ভয়াবহ একটি দুঃস্বপ্ন দেখার পর মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
হান ক্যাং এর লেখার একটি বিশেষ দিক হলো তিনি শারীরিক এবং মানসিক কষ্টের উভয় দিকই একইসাথে পাঠকের চিন্তার সাথে যুক্ত করে দিতে পারেন।
হান ক্যাং তার লেখায় সমাজের অলিখিত নিয়ম, মানুষের জীবনের সহিংসতা, অতীতের বেদনাদায়ক স্মৃতি, ইত্যাদি পীড়াদায়ক বিষয়গুলোর সাথে পাঠককে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন। তিনি শরীর এবং আত্মার সংযোগ সম্পর্কে অত্যান্ত সচেতন, এছাড়াও জীবিত এবং মৃত ব্যাক্তিদের সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখেন।
নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে তিনি সুইডিশ মুদ্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ক্রোনার পাবেন।
