গ্রুপ ইফেক্ট থেকে সতর্ক থাকা জরুরী
গ্রুপ ইফেক্ট হলো গ্রুপ বায়াস বা দলগত পক্ষপাতের একটি চরম রূপ। যখন আমরা যথেষ্ট বড় কোনো গ্রুপের মধ্যে থাকি, তখন আমরা ভিন্ন মানুষে পরিণত হই। কোনো স্পোর্টিং ইভেন্ট, কনসার্ট, কিংবা ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সমাবেশে নিজেকে এবং অন্যদের লক্ষ্য করে দেখুন। সেই কালেক্টিভ ইমোশনের মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখা একরকম অসম্ভব। আপনার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। আনন্দ বা দুঃখের অশ্রু অনেক সহজেই চলে আসে। কোনো গ্রুপের মধ্যে থাকাটা আমাদের ইনডিপেনডেন্ট রিজনিংকে উদ্দীপ্ত করে না, বরং সেই দলের অংশ হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাকেই জাগিয়ে তোলে। এটি কাজের পরিবেশেও সমানভাবে ঘটতে পারে, বিশেষ করে লিডার যদি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ও অ্যাগ্রেসিভ আকাঙ্ক্ষা উসকে দেন, অথবা 'আমরা বনাম তারা' ডাইনামিক তৈরি করেন। গ্রুপ ইফেক্টের জন্য সবসময় অন্যদের সশরীরে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না। এটি ভাইরাল আকারেও ঘটতে পারে, যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন কোনো মতামত ছড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের মধ্যেও সেই মতামতটি শেয়ার করার তীব্র ইচ্ছা সংক্রামিত করে, যা সাধারণত আউটরেজের মতো কোনো তীব্র আবেগ হয়ে থাকে।
গ্রুপ ইমোশন উদ্দীপিত হওয়ার একটি রোমাঞ্চকর এবং ইতিবাচক দিকও আছে। এভাবেই সামষ্টিক মঙ্গলের জন্য কোনো কাজ করতে আমাদের সংঘবদ্ধ করা যায়। কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে এই আবেদনটি আরও বেশি নেতিবাচক বা ধ্বংসাত্মক আবেগের দিকে যাচ্ছে, যেমন- অন্যদের প্রতি ঘৃণা, উগ্র দেশপ্রেম, অ্যাগ্রেশন, বা ঢালাও দৃষ্টিভঙ্গি, তবে আপনার নিজেকে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন এবং আপনার ওপর কাজ করা এই প্রবল আকর্ষণটির পেছনের সত্যটি দেখতে পাওয়া প্রয়োজন। নিজের যুক্তিবোধ বজায় রাখার জন্য সম্ভব হলে গ্রুপ সেটিং এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়, অথবা এ ধরনের পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সন্দেহ নিয়ে প্রবেশ করা উচিত।
যারা এই গ্রুপ ইফেক্টকে কাজে লাগিয়ে ইর্যাশনালিটির প্রাদুর্ভাব ঘটায়, সেইসব ডেমাগগ সম্পর্কে সচেতন থাকুন। তারা অবধারিতভাবেই কিছু নির্দিষ্ট কৌশলের আশ্রয় নেয়। কোনো গ্রুপ সেটিংয়ে, তারা প্রথমেই জনতার পরিচিত ধারণা ও মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলে তাদের উজ্জীবিত করতে শুরু করে, যার ফলে সবার মধ্যে একমত হওয়ার একটি আনন্দদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়। তারা বিচার, সত্য বা দেশপ্রেমের মতো ইমোটিভ কোয়ালিটি সম্পন্ন অস্পষ্ট কিন্তু ভারি শব্দগুলোর ওপর নির্ভর করে। তারা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করার বদলে বিমূর্ত ও মহৎ লক্ষ্যগুলোর কথা বলে।
রাজনীতি বা মিডিয়া জগতের এই ডেমাগগরা ক্রমাগত আতঙ্ক, জরুরি অবস্থা এবং ক্ষোভের অনুভূতি জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে। তাদের অবশ্যই এই ইমোশনাল লেভেলের মাত্রা উঁচুতে রাখতে হয়। এর বিরুদ্ধে আপনার প্রতিরক্ষা কৌশলটি খুবই সহজ: আপনার রিজনিং পাওয়ার এবং নিজের জন্য চিন্তা করার ক্ষমতাকেই আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করুন। আপনার স্বাধীন মনের ওপর অন্যদের যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করুন। যখন আপনি অনুভব করবেন যে আপনি কোনো ডেমাগগের উপস্থিতিতে আছেন, তখন দ্বিগুণ সতর্ক এবং অ্যানালিটিক্যাল হয়ে উঠুন।
