ডুমস্ক্রোলিং: সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ এবং আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য
আদিম যুগে টিকে থাকার তাগিদে মানুষকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সবসময় অতিরিক্ত সচেতন থাকতে হতো। মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগায় সোশ্যাল মিডিয়া। খেয়াল করলে দেখবেন, আজকাল ফেসবুকে অতিরিক্ত নেগেটিভ নিউজ বেশি সামনে চলে আসছে। আর স্বাভাবিকভাবেই নেগেটিভ নিউজের প্রতি মানুষের অ্যাটেনশনও থাকে বেশি। অতিরিক্ত নেগেটিভ নিউজ কনজিউম করার এই আসক্তি বা প্রবণতাকে বলা হয় ডুমস্ক্রোলিং।
একটানা ডুমস্ক্রোলিং এর ফলে মস্তিষ্কে কর্টিসল বা অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। ফলে খুব সহজেই ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির মতো মানসিক সমস্যাগুলো ডেভেলপ করে। সারাক্ষণ নেগেটিভ নিউজ দেখার ফলে সাবকনশাস মাইন্ডে দুনিয়াটাকে অনিরাপদ বা খারাপ ভাবার একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। এর ফলে ব্যক্তিগত জীবনে চারপাশের পরিবেশের সাথে অ্যাডজাস্ট করতে বেশ অসুবিধা হয়। এছাড়া ক্রমাগত নেগেটিভ নিউজ বা অন্যের চরম কষ্ট দেখার ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ইমোশনাল শূন্যতা তৈরি হয়। তখন নিজের আশেপাশের কাছের মানুষের স্বাভাবিক কষ্টগুলোকেও বেশ তুচ্ছ মনে হতে শুরু করে।
ডুমস্ক্রোলিং সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। মানসিক প্রশান্তির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য দিনের একটা নির্দিষ্ট টাইম নির্ধারণ করে রাখতে পারেন। অফলাইনে কাজের সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে স্ক্রোল করা থেকে বিরত থাকুন এবং পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করুন। বেহুদা স্ক্রিন টাইম যতটা সম্ভব কমিয়ে নিয়ে আসুন। এতে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
