ধর্ম আসলে কী বলতে চায় আমাদেরকে
মানুষ হিসেবে আমরা কারা? কেন আমরা এখানে এসেছি? আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কী? পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে ফিরেছে। এই অন্বেষণ থেকেই জন্ম নিয়েছে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক পথ, দর্শন এবং ধর্মবিশ্বাস। প্রতিটি ধর্মই মানবতাকে দিয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনের অর্থ খোঁজার এক একটি মানচিত্র।
আজকের এই লেখায়, আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রভাবশালী এবং উল্লেখযোগ্য ধর্মগুলোর উৎপত্তির ক্রমানুসারে একটি সংক্ষিপ্ত সফরে বের হবো।
আধ্যাত্মিকতার ঐতিহাসিক ধারা: ১২টি ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আমরা এখন জানবো প্রতিটি ধর্মের মূল ধারণা কী এবং তারা মানবজাতিকে কী মূল বার্তা দিতে চেয়েছে:
১. হিন্দুধর্ম
বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত ধর্ম, যা 'সনাতন ধর্ম' নামেও পরিচিত, এর কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা নেই। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক সমন্বিত রূপ, যার ভিত্তি পবিত্র বেদ। এর মূল ধারণা হলো কর্মফল (কর্মের অনিবার্য পরিণতি), জন্মান্তর (আত্মার বারংবার জন্মগ্রহণ) এবং মোক্ষ (জন্ম-মৃত্যুর এই অন্তহীন চক্র থেকে চূড়ান্ত মুক্তি)। এই ধর্মে একেশ্বরবাদ, বহু-ঈশ্বরবাদ ও সর্বেশ্বরবাদের মতো বৈচিত্র্যময় দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির স্থান রয়েছে। এর মূল বার্তা চারটি পুরুষার্থ বা জীবনের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত: ধর্ম (নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব), অর্থ (বৈষয়িক সমৃদ্ধি), কাম (বাসনা পূরণ) এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য মোক্ষ (আধ্যাত্মিক মুক্তি)। ব্যক্তিকে তার 'স্বধর্ম' (নিজস্ব দায়িত্ব) পালনের মাধ্যমে এই পরম লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথনির্দেশ দেওয়া হয়।
২. ইহুদি ধর্ম
প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ বছর পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যে বিকশিত, এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একেশ্বরবাদী ধর্ম। এর মূল ধারণা নবী আব্রাহাম (ইব্রাহিম) এবং পরবর্তীতে মুসা (মোজেস) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে 'তোরাহ' (তাওরাত) এবং এক অদ্বিতীয় ঈশ্বরে (যিহোবা) বিশ্বাস। ইহুদি বিশ্বাসমতে, ঈশ্বর ও ইহুদি জাতির মধ্যে একটি বিশেষ 'চুক্তি' (Covenant) বিদ্যমান। এর মূল বার্তা হলো এই চুক্তিকে সম্মান করা এবং ঈশ্বরের নির্দেশিত আইন ও অনুশাসন, বিশেষত 'টেন কমান্ডমেন্টস', মেনে চলা। ইহুদি ধর্ম নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং সম্প্রদায়ের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে এবং একটি পবিত্র জীবনযাপনের মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে শেখায়।
৩. জরথুস্ত্রবাদ
প্রায় ৩,৫০০ বছর আগে প্রাচীন পারস্যে নবী জরথুস্ত্র (বা জারাথুস্ট্রা) কর্তৃক প্রবর্তিত এই ধর্মটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একেশ্বরবাদী বিশ্বাস। এর মূল ধারণা হলো 'আহুরা মাজদা' (প্রজ্ঞাময় প্রভু) নামক এক ও অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করা। এই ধর্মে একটি শক্তিশালী দ্বৈতবাদী দর্শন রয়েছে, যেখানে ভালো (স্পেনতা মাইনইউ) এবং মন্দ (আংরা মাইনইউ) এর মধ্যে একটি মহাজাগতিক সংগ্রাম চলছে। আগুনকে ঈশ্বরের বিশুদ্ধতা ও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত পবিত্র গণ্য করা হয়। এর মূল বার্তা স্পষ্ট এবং তা তিনটি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: "সৎ চিন্তা, সৎ বাক্য, সৎ কাজ"। মানুষকে তার স্বাধীন ইচ্ছা ব্যবহার করে সক্রিয়ভাবে মন্দের বিরুদ্ধে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করা হয়।
৪. বৌদ্ধধর্ম
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে উত্তর ভারতে সিদ্ধার্থ গৌতম (বুদ্ধ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্ম ও দর্শন। এর মূল ধারণা 'চতুরার্য সত্য' (Four Noble Truths)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত:
- জীবনে দুঃখ আছে,
- দুঃখের কারণ আছে,
- দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব,
- দুঃখ নিবৃত্তির পথ আছে।
এই ধর্মে কর্মফল ও পুনর্জন্মের ধারণা থাকলেও আত্মার স্থায়ী অস্তিত্বকে (অনাত্মা) ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এর মূল বার্তা হলো প্রজ্ঞা, শীল (নৈতিকতা) ও সমাধি (ধ্যান) এর সমন্বয়ে গঠিত 'অষ্টাঙ্গিক মার্গ' অনুসরণ করা। এই পথ অনুশীলনের মাধ্যমে সকল প্রকার তৃষ্ণা ও আসক্তি থেকে মুক্ত হয়ে 'নির্বাণ' বা দুঃখের চূড়ান্ত অবসান ঘটানো এবং পরম শান্তি লাভ করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
৫. জৈন ধর্ম
ভারতের একটি প্রাচীন ধর্ম, যা মহাবীর কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে সংস্কার ও প্রচারিত হয়, যদিও এর ঐতিহ্য আরও প্রাচীন। এর কেন্দ্রীয় মূল ধারণা হলো অহিংসা। জৈনরা বিশ্বাস করে যে, প্রতিটি জীবন্ত সত্তার আত্মা আছে এবং কোনো জীবকেই বিন্দুমাত্র আঘাত করা মহাপাপ। এটি একটি নিরীশ্বরবাদী ধর্ম যা কর্মফল ও জন্মান্তরের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মূল বার্তা পাঁচটি মহাব্রত পালনের মধ্যে নিহিত: অহিংসা, সত্যবাদিতা, চুরি না করা, সংযম এবং আসক্তি বা মালিকানামুক্ত থাকা। এই কঠোর ব্রত পালনের মাধ্যমে আত্মাকে কর্মের বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে 'মোক্ষ' বা চূড়ান্ত মুক্তি লাভ করা।
৬. কনফুসিয়াসবাদ
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে প্রাচীন চীনের দার্শনিক কনফুসিয়াস-এর শিক্ষার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি নৈতিক, সামাজিক ও দার্শনিক ব্যবস্থা। এর মূল ধারণা ব্যক্তিগত নৈতিকতা এবং সঠিক সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর কেন্দ্র করে। এর প্রধান স্তম্ভগুলো হলো 'রেন' বা মানবতা ও সহানুভূতি, 'লি' বা সামাজিক আচার ও শিষ্টাচার, এবং 'শিয়াও' বা পরিবারের প্রতি ভক্তি ও কর্তব্য। এর মূল বার্তা হলো শিক্ষা, আত্ম-বিশ্লেষণ এবং আত্ম-উন্নয়নের মাধ্যমে একজন 'জুনজি' বা 'আদর্শ সজ্জন' ব্যক্তি হয়ে ওঠা। প্রতিটি ব্যক্তি যদি সমাজে তার নির্দিষ্ট ভূমিকা নিষ্ঠার সাথে পালন করে, তবেই একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায়পরায়ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
৭. তাওবাদ
প্রাচীন চীনের দার্শনিক লাওজি কর্তৃক (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫ম-৪র্থ শতক) প্রবর্তিত একটি ধর্ম ও দর্শন, যার প্রধান গ্রন্থ 'তাও তে চিং'। এর মূল ধারণা হলো 'তাও' (Tao) বা "পথ"। 'তাও' হলো মহাবিশ্বের অন্তিম, অবর্ণনীয়, প্রাকৃতিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহ বা শক্তি, যা সবকিছুর উৎস ও চালিকাশক্তি। এই দর্শনে 'ইন এবং ইয়াং' (Yin and Yang) বা বিপরীত শক্তির ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মূল বার্তা হলো 'উ ওয়েই' (Wu Wei) বা "নিষ্ক্রিয় কর্ম" অবলম্বন করা। অর্থাৎ, প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কিছু না করে, তার সাথে তাল মিলিয়ে চলা। কৃত্রিম উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সামাজিক জটিলতা ও নিয়মকানুন পরিহার করে সরল, নম্র এবং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে জীবনযাপন করার মাধ্যমেই পরম শান্তি ও সাম্যাবস্থা লাভ সম্ভব।
৮. শিন্তো ধর্ম
এটি জাপানের আদি এবং জাতিগত ধর্ম, যার কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা বা নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ নেই। এটি জাপানি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এর মূল ধারণা একটি সর্বপ্রাণবাদী বিশ্বাস, যা 'কামি' এর উপাসনাকে কেন্দ্র করে। 'কামি' হলো বিভিন্ন আত্মা বা ঐশ্বরিক সত্তা, যা প্রকৃতি (যেমন: সূর্য, পর্বত, নদী), পূর্বপুরুষ এবং এমনকি বিশেষ ঘটনা বা ধারণার মধ্যেও বাস করতে পারে। শিন্তো ধর্মে পবিত্রতা (Harae) এবং অপবিত্রতা (Kegare) এই দুই ধারণাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মূল বার্তা হলো 'কামি' এবং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করা। বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব এবং প্রার্থনার মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র রাখা, পূর্বপুরুষদের সম্মান করা এবং সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি ও ইহলৌকিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
৯. খ্রিস্টধর্ম
প্রায় ২,০০০ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে (রোমান সাম্রাজ্যের জুডিয়া প্রদেশে) যিশু খ্রিস্টের (যীশু) জীবন, শিক্ষা, মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের ওপর ভিত্তি করে এই একেশ্বরবাদী ধর্মের উদ্ভব। এর মূল ধারণা হলো, যিশু খ্রিস্ট ঈশ্বরের পুত্র এবং মানবজাতির ত্রাণকর্তা, যিনি পৃথিবীতে এসে ঈশ্বরের ভালোবাসা ও ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন। খ্রিস্টানরা 'পবিত্র ত্রিত্ব' (Trinity), অর্থাৎ পিতা (ঈশ্বর), পুত্র (যিশু) এবং পবিত্র আত্মার একত্বে বিশ্বাস করে। বাইবেল হলো তাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। এর মূল বার্তা দুটি মহান আদেশের মধ্যে সারসংক্ষেপিত: ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা এবং নিজের প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসা। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে, যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়া ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে মানবজাতির পাপমুক্তি এবং ঈশ্বরের সাথে পুনর্মিলন ও অনন্ত জীবনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
১০. ইসলাম
খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে আরবের মক্কা নগরীতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে এই একেশ্বরবাদী ধর্মের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ ঘটে। 'ইসলাম' শব্দের অর্থ 'আত্মসমর্পণ'। এর মূল ধারণা হলো 'তাওহীদ' বা কঠোর একেশ্বরবাদ। অর্থাৎ, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। পবিত্র কোরআনকে আল্লাহর অবিকল বাণী এবং মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। এর মূল বার্তা হলো আল্লাহর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পাঁচটি স্তম্ভ বা প্রধান কর্তব্য পালন করতে হয়: ঈমান (বিশ্বাস), সালাত (দৈনিক প্রার্থনা), যাকাত (দান), সওম (রোজা) এবং হজ (তীর্থযাত্রা)।
১১. শিখ ধর্ম
পঞ্চদশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশের পাঞ্জাব অঞ্চলে গুরু নানকের শিক্ষার মাধ্যমে এই একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তন হয়। এর মূল ধারণা হলো 'এক ওঙ্কার'। অর্থাৎ, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, তিনি নিরাকার এবং সর্বব্যাপী। শিখরা দশ জন মানব গুরুর শিক্ষা অনুসরণ করে। তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'গুরু গ্রন্থ সাহেব' কে জীবন্ত ও চূড়ান্ত গুরু হিসেবে মান্য করা হয়। এই ধর্মে জাতিভেদ, বর্ণপ্রথা ও আনুষ্ঠানিকতার বিরোধিতা করে সাম্য ও সেবার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মূল বার্তা তিনটি মৌলিক নীতির মাধ্যমে প্রকাশ পায়: ঈশ্বরের নাম ধ্যান করা, সৎ পথে উপার্জন করা এবং নিজের উপার্জন অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া ও সেবা করা।
১২. বাহাই ধর্ম
ঊনবিংশ শতকে পারস্যে মির্জা হোসেন আলী (যিনি 'বাহাউল্লাহ' নামে পরিচিত) এই একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তন করেন। এর মূল ধারণা তিনটি ঐক্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত: ঈশ্বরের ঐক্য (ঈশ্বর এক), ধর্মের ঐক্য (সব ধর্মই এক ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা ক্রমান্বয়িক সত্য), এবং মানবজাতির ঐক্য। বাহাইরা বিশ্বাস করেন যে, আব্রাহাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যিশু, মুহাম্মদ এবং বাহাউল্লাহ সকলেই ঈশ্বরের প্রেরিত বার্তাবাহক, যাঁরা নিজ নিজ যুগে মানবজাতিকে পথ দেখিয়েছেন। এর মূল বার্তা হলো বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সকল প্রকার জাতিগত, ধর্মীয় ও শ্রেণিগত কুসংস্কার দূর করা, নারী-পুরুষের পূর্ণ সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা, বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান এবং একটি বৈশ্বিক সরকার ও ভাষার মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতিকে একতাবদ্ধ করাই এই ধর্মের প্রধান লক্ষ্য।
উপসংহার
সংক্ষেপে বলা যায়, পৃথিবীর এই প্রধান ধর্ম ও দর্শনগুলো মানবসভ্যতার আধ্যাত্মিক, নৈতিক এবং সামাজিক বিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। এদের মূল ধারণা এবং উপাসনা পদ্ধতিতে ব্যাপক বৈচিত্র্য থাকলেও, প্রায় প্রতিটি ধর্মের মূল বার্তা এক ও অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে ইঙ্গিত করে: মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনে উৎসাহিত করা, সহানুভূতি ও সেবার মাধ্যমে সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠন করা এবং জীবনের চূড়ান্ত সত্য বা পরম মুক্তি অর্জনে পথনির্দেশ করা। এই বিশ্বাসগুলোই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে গভীরভাবে রূপায়ণ করেছে।
