চারপাশে যখন স্টুপিড

Surrounded by Idiots

দুনিয়াতে স্টুপিডদের অভাব নেই। জীবনে চলতে গেলে এদের সাথে আমাদের ফেইস করতে হয়। অফিসে কিংবা বসবাসের স্থানেও এদের অ্যাভয়েড করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় এদের সাথে কাজ করা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। এই লেখায় আজ আলোচনা করবো কীভাবে স্টুপিডদের সাথে ইফেক্টিভলি ডিল করা যায়। 

স্টুপিডিটি মানে বুদ্ধির কমতি নয়, বরং নিজেকে বুঝার চেষ্টা না করা এবং শেখার আগ্রহ না থাকা।

চার ধরনের ব্যক্তিত্ব

মানুষকে তার ব্যক্তিত্বের ধরন অনুযায়ী চারটি রঙ (লাল, হলুদ, সবুজ, নীল) দ্বারা ভাগ করতে পারেন। প্রতিটি রঙের ব্যক্তিদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য দিন। 

ডমিন্যান্ট, অ্যাসার্টিভ, গোল-ওরিয়েন্টেড এবং বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিরা থাকবে লাল রঙের গ্রুপে। 

হুলুদ রঙের গ্রুপে থাকবে অনুপ্রেরণামূলক, সামাজিক, উৎসাহী, এবং আশাবাদী ব্যক্তিরা। 

সবুজ রঙের গ্রুপের ব্যক্তিরা স্থির, শান্ত, ইম্প্যাথেটিক, এবং নির্ভরযোগ্য হবে। 

আর নীল রঙের গ্রুপে থাকবে অ্যানালিটিক্যাল, বিশ্লেষণধর্মী, লজিক্যাল, এবং সুনির্দিষ্ট টাইপের ব্যক্তিরা। 

এখানে এই চারটি রঙের ব্যক্তিদের আলাদাভাবে ডিটেক্ট করার মাধ্যমে তাদের সাথে কমিউনিকেশন করতে আপনার সুবিধা হবে।

প্রথমে নিজের সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। চারটি রঙের মধ্যে আপনার নিজের ব্যক্তিত্বের টাইপ নির্দিষ্ট করুন। নিজের ব্যক্তিত্ব বুঝার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন অন্যরা কীভাবে আপনাকে গ্রহণ করে। ফলে আপনি কার সাথে কোন স্টাইলে কমিউনিকেট করলে ভালো হবে তা বুঝতে পারবেন।

বিভিন্ন কমিউনিকেশন স্টাইল সম্পর্কে জানুন। একেক টাইপের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একেক টাইপের কমিউনিকেশন স্টাইল ইফেক্টিভ হয়। যেমন ধরেন নীল রঙের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আপনি যদি বিস্তারিত ঘটনার বিবরণ দিয়ে কথা বলেন তাহলে কভার্সেশনটি ইন্টারেক্টিভ হবে। যার সাথে যেভাবে সুবিধা মনে হয় তার সাথে সেইভাবে কমিউনিকেট করুন।

বৈচিত্র্যময়তাকে গ্রহণ করতে শিখুন। বিভিন্ন টাইপের মানুষ একটা টিমে থাকলে তাদের বিভিন্নভাবে কাজে লাগানো যায়। প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তাদের একত্রিত করে একটি ব্যালেন্স টিম তৈরি করতে পারলে সেখান থেকে বেস্ট আউটকাম পাওয়া যায়। বৈচিত্র্যময়তা পৃথিবীর সৌন্দর্য। বৈচিত্র্য না থাকলে সব কিছু একঘেয়েমি লাগতো।

কাউকে একটি নির্ধারিত ট্যাগ দিয়ে বিচার করবেন না। মানুষ জটিল একটি প্রাণী। অনেকে আছে যার মধ্যে প্রতিটি রঙের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তাই এই মডেলটি কঠোরভাবে মানতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এটিকে ১০০% সঠিক ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই মডেলটি আপনি কাজে লাগাতে পারেন।

স্টুপিডদের ডিল করবেন যেভাবে

স্টুপিডদের সাথে কখনো ডিবেটে যাবেন না, কারণ তারা লজিক মানে না, এদের সাথে আপনি জিততে পারবেন না। জিতেও লাভ নেই, কারণ পরে তারা আরো ভয়ংকরভাবে প্রতিশোধ নিবে। শুয়োরের সাথে ফাইট করলে আপনার নিজের গায়েই কাদা লাগবে, কারণ শুয়োর একটা জঘন্য নোংরা প্রাণী, আর শুয়োরটাও চায় আপনার গায়ে কাদা লাগুক, যেন আপনি তার কাতারে নেমে আসেন। 

এদেরকে সরাসরি দোষারোপ না করে, প্রশ্ন করুন। "তুমি ভুল বলেছে" এইভাবে না বলে, "তুমি কেন এরকমটা ভাবো" এইভাবে বলতে পারেন, তখন এরা চিন্তায় পড়ে যাবে, আর আপনি রিল্যক্সে থাকবেন।

এরা কাজের সময় বিরক্ত করলে নিউট্রাল (নীরব) থাকুন। এদের সাথে ইন্টারেকশন করবেন না। কারণ এদের অ্যাটেনশন দিলে পরে আরো বেশি বিরক্ত করবে। আর অ্যাটেনশন না পেলে তখন নিজে থেকেই সটকে যাবে। 

যার তার সাথে নিজের শক্তি অপচয় করবেন না। সবাই আপনার সময় ডিজার্ভ করে না। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেকে সময় দেওয়াই ভাল।

মনে রাখবেন, সবাই স্টুপিড, আপনিও কারো কাছে স্টুপিড।আবার কিছু লোক আছে স্টুপিড না, কিন্তু মাঝেমধ্যে মানুষ হতাশা কিংবা অপ্রস্তুত অবস্থায় স্টুপিডের ন্যায় আচরণ করে। তাই সবসময় সবার সাথে বিনয়ের সাথে আচরণ করুন এবং সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। 

সবার কাছ থেকেই কিছু না কিছু শিখার আছে, এমনকি স্টুপিডদের কাছ থেকেও, আপনাকে শুধু জানতে হবে তাদের কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এদেরকে এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।

স্টুপিডরাও মানুষ

স্টুপিডদের দেখে বিরক্ত হবেন না। তাদেরও পৃথিবীতে অন্যদের মত সমান অধিকার রয়েছে। এদেরকে অন্যান্য বস্তুর ন্যায় দেখুন, যেমন চেয়ার, টেবিল, পাথর, গাছ, ইত্যাদি। আপনি কি একটি গাছ দেখে বিরক্ত হন? হন না। এইভাবে চিন্তা করলে আপনার ব্যক্তিগত লাইফে এবং কর্মক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় দন্ধ এড়িয়ে চলতে পারবেন।

মানুষ এতটাও জটিল নয়, কেবল একে অন্যের চেয়ে ভিন্ন। ভিন্নতা থেকে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় না, বরং ভুল বুঝাবুঝি থেকে হয়। নিজেকে বুঝার চেষ্টা করুন কারণ নিজেকে বুঝার মাধ্যমেই অন্যদের বুঝতে পারা যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url