প্রোক্রাটিনেশন
প্রোক্রাটিনেশন হলো যে কাজটি আগে করা দরকার সেটা না করে ঐ মুহুর্তে অন্য কিছু করা। মানে কোনো কাজ করতে দেরী করা বা শেষ মুহুর্তে করা। যেমন: পড়ার সময় পড়া বাদ দিয়ে টিভি দেখা অথবা ফোন টিপাটিপি করা, ডেডলাইনের আগের দিন পর্যন্ত এসাইন্মেন্ট ফেলে রাখা।
প্রোক্রাটিনেশন আমাদের অগ্রগতির পথে বড় বাধা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের লাইফে একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে প্রোক্রাটিনেশন। তাই তোমাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রোক্রাটিনেশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
প্রোক্রাটিনেশনকে অ্য্যাটাক দিয়ে নিজের কাজ করে ফেলার সবচেয়ে ভাল ট্যাক্টিস হচ্ছে তোমার পড়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় সেট করা। যে সময়টাতে তুমি পড়া ছাড়া অন্য কিছু করবে না। কেউ তোমাকে ডিস্টার্ব করতে পারবে না। তাই পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় সেট করা জরুরী।
পড়ার জন্য একটা আলাদা রিডিং রুম থাকা প্রয়োজন। কারণ আলাদা রিডিং রুম না থাকলে অনেক ডিস্টার্ব হয়, পড়ায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়, যার ফলে পড়তেও ভাল লাগে না। তাই পড়ার জন্য রিডিং রুম বা কেউ যেন ডিস্টার্ব করতে না পারে এমন একটি জায়গা সিলেক্ট করতে হবে।
একটা আনকম্প্রোমাইজ রুটিন তৈরি করতে হবে। রুটিনের মধ্যে পড়াশোনার সময়, কিছু সময় টিভি দেখা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে। তবে রুটিনে মোট সময়ের পড়ার জন্য থাকবে ৮০% এবং বাদবাকি কাজের জন্য থাকবে ২০% সময়। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে চাইলে তোমাকে অবশ্যই কঠোরভাবে রুটিন ফলো করতে হবে। অন্তত এক মাস রুটিন ফলো করে দেখ। তোমার অগ্রগতি দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবে।
প্রতিদিন কতটুকু পড়াশোনা করেছ, আরও কতটুকু পড়া বাকি আছে, ডেইলি কত ঘণ্টা পড়া জরুরী, ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রতিদিন জার্নালে লিখে লিখে হিসাব রাখবে। তাহলে তোমার কতটুকু প্রোগ্রেস হয়েছে সেটি ট্র্যাক রাখতে পারবে।
শরীর দূর্বল হয়ে গেলে পড়াশোনায় মনোযোগ থাকে না। তাই ভালভাবে খাওয়া দাওয়া করতে হবে। পড়ার জন্য শক্তি প্রয়োজন। পড়ার সময় পাশে একটি পানির বোতল রাখবে। গলা শুকিয়ে গেলে একটু পর পর গদগদ করে পানি খাবে। কোল্ড ড্রিংক্স, চা, কফি, বেশি খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। তাই এগুলো পরিহার করবে। এর পরিবর্তে বেশি বেশি পানি খাবে। খাবার খাবে সোর্স অব এনার্জি হিশাবে, শক্তি অর্জন করার জন্য, স্যাটিস্ফেকশনের জন্য নয়। কোনো বেলার খাবার মিস দিবে না। সকালে ভালভাবে নাস্তা করবে। দুপুরে হালকা খাবার খাবে। মাছ, মাংস, শাক, সবজি খাবে। ভাত কম খাবে। রাতেও হালকা খাবার খাবে। ফলমূল খাবে।
প্রথমে কঠিন কাজগুলো করে ফেলার চেষ্টা করবে কারণ তখন মাইন্ড এবং শরীরে এনার্জি থাকে। যেই পড়াটা বেশি কঠিন মনে হবে সেইটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে ফেলবে। ছোট ছোট অর্জনগুলো একদিন বড় অর্জনে পরিণত হবে।
একটি সমস্যার নিয়ে বেশিক্ষণ বসে থাকবে না। কোনো একটি বিষয় বুঝতে না পারলে শিক্ষকের কাছ থেকে হেল্প নিবে। অথবা বন্ধুদের সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে। তাছাড়া ইউটিউবে এখন প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায়। তুমি কোনো পড়া বা অংক বুঝতে না পারলে সেটি ইউটিউব দেখে বুঝে নিবে। একটি ভিডিও দেখে না বুঝলে দরকার হলে কয়েকটি ভিডিও দেখবে।
একটানা বেশি সময় ধরে পড়াশোনা করবে না। এক ঘণ্টা পর পর দশ মিনিটের জন্য ব্রেক নিবে। মাঝেমধ্যে দূরের আকাশ, সবুজ গাছপালা, টবের ফুল, ইত্যাদি প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখবে, তাহলে মন মেজাজ ভাল থাকবে।
কখনো কোনো একটি বিষয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা হলে, বিক্ষিপ্ত মনের এলোমেলো চিন্তাগুলো একটি খাতার মধ্যে লিখে ফেলবে, তারপর পৃষ্ঠাটি ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ডাস্টিবিনে ফেলে দিবে, এতে করে ছেঁড়া পৃষ্ঠার সাথে সাথে তোমার মনের এলোমেলো চিন্তাগুলোও দূর হয়ে যাবে।
তুমি লাইফে যা কিছু অর্জন করতে চাও সেগুলো নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দাও। কাঙ্ক্ষিত বস্তুগুলোর একটি লিস্ট তৈরি কর। প্রতিদিন তিনবার - সকালে, বিকালে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে, লিস্টটি বের করে দেখবে। এটি তোমাকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
