বটবৃক্ষের ছায়াতলে
দ্য গ্রেট রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস এত বড় একজন দার্শনিক ছিলেন কিন্তু নিজের সন্তানকে মানুষ করে যেতে পারেননি। এটা গ্রেট লোকদের কমন একটি সমস্যা। তারা বাইরের সমস্যা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে নিজের ঘরে খুব বেশি সময় দিতে পারেন না। যার ফলে সমাজ তাদেরকে গ্রেট হিসাবে বিবেচনা করলেও পরিবারের কাছে তারা গ্রেট হিসাবে বিবেচিত হন না। যেমন আমাদের হুমায়ূন আহমেদ একজন গ্রেট লেখক ছিলেন কিন্তু স্বামী বা পিতা হিসাবে ততটা গ্রেট ছিলেন না। গ্রেট লোকদের মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের লাইফে স্ট্রাগল করতে হয়। সন্তানেরা বাবার কাছ থেকে তেমন কিছু পায় না। বরং বাবার খ্যাতির কারণে আরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। মানুষ তাদেরকে সহজে জাজ করে, তাদের কাছ থেকে অনেক বেশি এক্সপেক্ট করে, যা লাইফের দুর্দশাকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
বটবৃক্ষের নিচে যেমন অন্য কোনো বৃক্ষ জন্মাতে পারে না তেমনি গ্রেট লোকদের ছায়াতলে তাদের সন্তানেরাও নিজের পরিচয়ে গ্রেট হতে পারে না। যদিও তাদের গ্রেট হওয়ার সামর্থ্য থাকে তবুও তাদের সকল প্রচেষ্টাই হাওয়াই মিলিয়ে যায়।
ইতিহাসে যারা গ্রেট হিসাবে পরিচিত তারা সবাই আমাদের মতই রক্ত মাংসে গড়া মানুষ ছিলেন। বাইরে থেকে তাদেরকে দেখে গ্রেট মনে হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তারাও আমাদের মত টয়লেটে যেতেন, হাগু করতেন, সুচু করতেন। মাঝেমধ্যে তাদেরও কোষ্ঠকাঠিন্য হয় অথবা পাতলা পায়খানা হয়। যেগুলো তাদের পরিবারের লোকেরা খুব কাছ থেকে দেখতে পারেন। যার কারণে বাইরের জগতের মানুষ তাদের গ্রেট হিসাবে মেনে নিলেও পরিবারের কাছে তারা কিন্তু খুবই স্বাভাবিক একজন মানুষ। যার কারণে তারা পরিবারের কাছে তেমন একটা স্পেশাল ট্রিট পায় না। বরং অনেক সময় পরিবার থেকে সাপোর্ট পাওয়ার পরিবর্তে উলটো বাধাগ্রস্ত হয়। কারণ সকল পরিবারেই কিছু সমস্যা থাকে। পারিবারিক ঝুট ঝামেলা, অশান্তি এবং অবজ্ঞা ইত্যাদি কারণে তাদের আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে। লাইফে ডাউনফল শুরু হয়। এটি তারা মেনে নিতে পারেন না। ফলে মনের মধ্যে এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি হয়। একটা সময় তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছা করে। মনে হয় অন্য কোথাও চলে যেতে পারলে কিছুটা শান্তি পাওয়া যাবে। কেউ নিজের লাইফটাকে আবার নতুন করে গুছিয়ে নেয়, কেউ সন্ন্যাসীদের জীবন ধারণ করে, কেউ পরকীয়ায় আসক্ত হয়, কেউ নেশার জগতে পা বাড়ায়।
আমাদের এই বাংলাদেশে একজন গ্রেট নেতা ছিলেন, বেঁচে থাকা অবস্থায় নিজের স্ত্রী সন্তানকে খুব বেশি ভালবাসা দেয়ার সুযোগ পাননি, কারণ তিনি তার যৌবনের বেশিরভাগ সময় জেলে কাটিয়েছেন, জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করে গিয়েছেন, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, কিন্তু তিনি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে পারেননি। বাকি যে দুই কন্যা কেবল ভাগ্যের জোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তাদেরকেও জীবনভর সহ্য করতে হয়েছে অসহনীয় নরক যন্ত্রণা।
