উগ্রতা
পৃথিবীতে মোট দুই ধরনের উগ্র লোক আছে। এক, যারা রিলিজিয়নকে খুব সিরিয়াসলি নেয়। দুই, যারা মনে করে রিলিজিয়নের কোনো ভ্যালু নাই। উগ্র ধার্মিক এবং উগ্র নাস্তিক উভয়ে সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভাল না।
কোনো কিছু রাতারাতি পরিবর্তন করা যায় না। সব কিছুর একটা সিস্টেম আছে।
তুমি যদি কোনো কিছু পরিবর্তন করতে চাও তাহলে প্রথমে তোমাকে সময় দিতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিশেষ করে যখন তুমি কারো ধর্ম বা বিশ্বাস নিয়ে কথা বলবে, তোমাকে এগোতে হবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং ভালোবাসার সাথে।
কারো বুদ্ধিমত্তাকে ছোট করে তুমি তাদের মাইন্ড পরিবর্তন করতে পারবে না বরং এতে তারা তাদের মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো শক্ত করে গড়ে তুলবে।
যখন তুমি তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে তখন তাদের মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং তুমি বুঝিয়ে বললে তারা তোমার প্রায় সকল কথাই গ্রহণ করবে। তাছাড়া তুমি যতই যৌক্তিকভাবে তোমার বক্তব্য উপস্থাপন কর না কেন, তা যদি তাদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তারা তোমার কথা কখনোই গ্রহণ করবে না। তারা তাদের বিশ্বাসের পক্ষে ঠিকই কোনো যুক্তি খুঁজে বের করে নিবে। অথবা তারা তোমার সাথে আদিম মানুষদের মত কোনো আচরণ করবে। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এতে তোমার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
তুমি যদি সত্যিকার অর্থেই তাদের উপকার করতে চাও তাহলে তোমাকে একটি ভাল স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করতে হবে, তোমার সুবিধা অনুযায়ী তোমাকে বুঝেশুনে কাজ করতে হবে, ফোকাস ধরে রাখতে হবে, প্রসেসিং এর উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মানব প্রকৃতি বুঝতে হবে।
তোমার নিজের ভিতরেও কিছু উগ্রতার উপাদান রয়েছে, সেগুলো খেয়াল করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এমন কথা কখনো বলবে না যা অন্যের ইন্টেলিজেন্সকে ছোট করে।তোমাকে সবদিক থেকে ব্যালেন্স করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
অন্যের ধর্ম বিশ্বাসকে সম্মান করবে। শুধুমাত্র একপাক্ষিক বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করবে না। বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে। জ্ঞানের চর্চা করা কখনো থামাবে না। একটি বিষয় যত গভীরভাবে পড়াশুনা করা যায় তা করবে।
প্রচুর পরিমাণের বই পড়বে, ক্রিটিকাল চিন্তা করতে শিখবে, নিজের লাইফে উন্নতি করা কখনো থামাবে না। যারা তোমাকে ছোট করতে চায় তাদের এলাও করবে না, টক্সিক লোকদের এড়িয়ে চলবে, প্রতিভাবান মানুষদের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করবে, সুযোগ পেলে জ্ঞানী লোকদের সাথে কনভার্সেশন করবে, নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিবে।
