ডিপ্রেশন

জীবনের একটা সময় প্রায় আমরা সকলেই ডিপ্রেশনের মধ্য দিয়ে যাই। কোনো দুঃখ কষ্ট না থাকলে জীবন খুব সুন্দর হতো। কিন্তু কিছু জিনিস আছে অবধারিত। এগুলো আমরা অতিক্রম করতে পারি না, যেমন- অসুস্থতা, বয়সবৃদ্ধি এবং মৃত্যু। এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হলে আমরা ডিপ্রেসড হয়ে পড়ি। 

ডিপ্রেশন সবসময় আমাদের ভিতরে ওঁত পেতে থাকে। সুযোগ বুঝে আমাদের উপর হামলে পড়ে। খেয়াল করলে দেখবেন এই ডিপ্রেশনের মূল উৎস হচ্ছে আমাদের নেতিবাচক চিন্তা। আমরা যত বেশি নেতিবাচক চিন্তা করবো আমাদের হতাশা তত বাড়বে। সময় যখন খারাপ যায় তখন আমরা আরও বেশি নেতিবাচক চিন্তা করি। এটা একটা ফাঁদ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমরা নেতিবাচক চিন্তার ফাঁদ থেকে খুব সহজে বের হতে পারি না। অনেক সময়, আমাদের কাছে যা বাস্তব মনে হয় তা আসলে ফ্যান্টাসি। মন আমাদের সেটি বুঝতে দেয় না। ফ্যান্টাসি এবং বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য বুঝা জরুরী। তাহলে আমাদের জীবন সুন্দর হবে। 

প্রথমত, ডিপ্রেশনের সময় আপনার নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে পর্যবেক্ষন করুন, ভাবুন এগুলো আপনার মনের নীল আকাশে ছুটে চলা এক টুকরো সাদা মেঘ, এগুলোকে যেতে দিন। 

দ্বিতীয়ত, অন্যদের বাজে মন্তব্য গুরুত্ব দিবেন না, কেউ যখন আপনাকে বাজে মন্ত্যব্য করবে, ধরে নিবেন তারা নিজেরাই ডিপ্রেশনে ভুগছে, তারা নিজেদের হতাশা থেকে আপনাকে বাজে মন্তব্য করে। বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে তাদের লাইফে কোনো সমস্যা নাই, কিন্তু আসলে সমস্যা আছে। তাদের বাজে মন্তব্য একদমই পাত্তা দিবেন না, তাহলে তারা আপনাকে কন্ট্রোল করতে পারবে না। 

তৃতীয়ত, আমাদের বেশিরভাগ চিন্তাই আমাদের ব্যক্তিগত সীমিত অভিজ্ঞতা নির্ভর। আমাদের চিন্তাগুলো আমাদের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই উৎপন্ন হয়। পরিস্থিতির সাথে সাথে আমাদের চিন্তাগুলোরও পরিবর্তন হয়। যখন দেখবেন, আপনার চিন্তাগুলো নেগেটিভ প্যাটার্নে আসতেছে, তখন সম্পূর্ন মনোযোগ বর্তমানে দিন, গভীর শ্বাস নিন, নিজের শ্বাস প্রশ্বাসের দিকে খেয়াল করুন। এটাকে বলে ব্রিদিং প্র্যাকটিস। 

আপনি ব্রিদিং প্র্যাকটিস করার মাধ্যমে বর্তমানে উপস্তিত থাকতে পারেন। ব্রিদিং সবসময় বর্তমানেই সংঘটিত হচ্ছে। তাই বর্তমানে উপস্থিত থাকার এটাই সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী মাধ্যম। ব্রিদিং প্র্যাকটিসের মাধ্যমে আপনি কিছুটা মানসিক স্বস্তি পাইলেন, কিছু সময়ের জন্য দুশ্চিন্তা থেকে বিরত থাকতে পারলেন। 

বর্তনামে উপস্থিত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি চিন্তা করতে পারবেন না। তবে এই না যে আপনার কাজ করার ক্ষমতাও চলে যাবে। বরং আরও মনোযোগের সাথে কাজ করতে পারবেন। ফোকাস করার ক্ষমতা বাড়বে। আপনি এই মুহুর্তে এটি পড়া বন্ধ করে এক মিনিটের জন্য ব্রিদিং প্র্যাকটিস করতে পারেন। সম্পূর্ন মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করবেন কিভাবে বাতাস পেটের ভিতরে যাচ্ছে কিভাবে বাতাস বের হচ্ছে। আপনি কোনো রকম চিন্তা ছাড়াই অনেক কিছু খেয়াল করতে পারেন। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন আপনার মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে আছে, তারপর তা সোজা করে নিলেন। এই যে এভাবেই বর্তমানে উপস্থিত থাকার মাধ্যমে আপনি আরও অনেক কিছু খেয়াল করবেন যেগুলো এতদিন আপনার নজরে ছিল না। তো এসব সমস্যা নজরে পড়লে আবার হতাশ হয়ে যাবেন না। সমস্যা আবিষ্কার করা মানে আপনি সমস্যার অর্ধেক সমাধান করে ফেলেছেন। বর্তমানে উপস্থিত থাকুন। বর্তমানেই মুক্তি।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url