অরিজিন

অরিজিন বইটি আমেরিকান থ্রিলার লেখক ড্যান ব্রাউনের লেখা প্রফেসর রবার্ট ল্যান্ডন সিরিজের পঞ্চম বই। ব্রাউন তার জগদ্বিখ্যাত বই "দ্য ভিঞ্চি কোড" এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

বইয়ের প্লট নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাইনা, প্রযুক্তি দুনিয়ার একজন প্রভাবশালী ফিউচারিস্ট এবং বিজ্ঞানী এডমন্ড কিয়ার্শ, সে দাবি করে তার আবিষ্কার মানব সভ্যতার অমীমাংসিত মৌলিক দুটো প্রশ্নের উত্তর দেবে। কিয়ার্শ পৃথিবীর প্রধান চার ধর্মের প্রধান চার ধর্মগুরুর সাথে তার গোপন আবিষ্কারটি শেয়ার করেন। কিন্তু ধর্মগুরুরা এটি জানতে পেরে কনফিউজড হয়ে যায়। তারা ভাবে আবিষ্কারটি মানুষের সামনে আসলে ধর্ম হুমকির মুখে পড়বে। যুগান্তকারি আবিষ্কারটি সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য একটি ইভেন্টের আয়োজন করেন কিয়ার্শ, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিম্বলজিস্ট রবার্ট ল্যাংডন। কিন্তু খুব দ্রুতই ল্যাংডন বুঝতে পারে বিশাল এক বিতর্কের জন্ম দেবে এডমন্ডের এই ঘোষণাটি। এদিকে হঠাৎ করেই ঘোলাটে হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

যদিও রবার্ট ল্যাংডন সিরিজের অন্যান্য বইগুলোর তুলনায় প্লট এবং টুইস্টের দিক থেকে অরিজিন বইটি কিছুটা পিছিয়ে আছে, তবে এই কথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বইটি আপনাকে পেইজ টার্ন করাতে বাধ্য করবে, তাছাড়া অরিজিনের বিষয়বস্তু আমার কাছে ভাল লেগেছ, তাই বইটি পড়ার সময় আমি বেশ মজা পেয়েছি। বইটিতে লেখক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে গল্পের কাহিনীর সাথে মিক্স করে বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। বইটিতে ব্রাউন বিজ্ঞানের কিছু চমৎকার বিষয় এত সহজ ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন যে একটা স্কুলের বাচ্চাও খুব সহজে বিষয়গুলো বুঝতে পারবে।

বইতে যেসব স্থাপত্য, শিল্পকর্ম, বিজ্ঞান এবং ধর্মীয় সংঘঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর বাস্তবিক অস্তিত্ব রয়েছে। পড়ার সময় আমি গুগলে সার্চ করে দেখেছিলাম।

বইটির একটি উল্যেখযোগ্য অংশ ছিল বিবর্তন নিয়ে। বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের পক্ষে যুক্তি দেখান কিন্তু ধার্মিকরা সেটি মানতে চায় না। এখানে দুই দলের মনোজগতের মধ্যে যে বিশাল ফাটল রয়েছে সেটি বেশ ভালভাবে উপলব্দি করা যায়। 

আমি মনে করি, বইটি বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী দুই দলেরই পড়া উচিৎ, তাহলে একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আরেকটু বেশি জানতে পারবে। বইটি ধার্মিকদের পড়া উচিৎ, কারণ ধর্ম বিশ্বাসের পাশাপাশি জানা উচিৎ বিজ্ঞান কতদূর এগিয়ে গিয়েছে। আবার নাস্তিকদেরও এটা পড়া উচিৎ, কারণ নাস্তিকরা সাধারণত ধার্মিকদের মনমানসিকতা সম্পর্কে হয় সম্পূর্ণ অজ্ঞ, নয়তো পুরোপুরি তাচ্ছিল্যপূর্ণ। নাস্তিকরা এটা বুঝতে পারে না যে ধর্ম নিয়ে কথা বলা অন্য আট দশটা বিষয়ের মত এতটা সহজ নয়। যে মানুষটি ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে গড়ে তুলেছে তার কাছে এটা জীবন মরণের প্রশ্ন। এটা এমন কোন বিষয় নয় যা নিয়ে স্রেফ আলোচনার খাতিরে আলোচনা করা যায়। এটা এমন একটা ব্যাপার যার দিকে এগোতে হবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে। বইটিতে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী দুই শ্রেণীর মানুষের জন্যেই গুরুত্বপূর্ন মেসেজ রয়েছে।

বইটি পড়ার সময় রবার্ট ল্যাংডনের সাথে পুরো জার্নিটা বেশ উপভোগ্য ছিল। বইটি পড়ে দেখতে পারেন, আপনার মনের মধ্যে থাকা অনেক রহস্যের পর্দা উন্মোচিত হবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url