শয়তান তোমাকে পথভ্রষ্ট করেনি
জন্মগতভাবেই মানুষের মধ্যে অপরাধ করার সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে, পারিবারিক এবং সামাজিক শিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক আদর্শ গড়ে ওঠে৷ শয়তান হচ্ছে মানুষের কাল্পনিক আবিস্কার, মানুষই শয়তানকে সৃষ্টি করেছে, যাতে করে নিজের অপকর্মের দোষ শয়তানের উপরে চাপিয়ে দেওয়া যায় এবং নিজের অপরাধ ঢেকে ফেলা যায়।
কেউ যদি অপরাধী হয়ে বেড়ে ওঠে, এটা যতটা না ব্যক্তির দোষ, তার চেয়ে অনেক বেশী সমাজ এবং রাষ্ট্রের।
অপরাধমুক্ত সমজা গড়ে তুলতে হলে ছোটবেলা থেকেই ব্যাক্তিকে খারাপ কাজের জন্য শাস্তি এবং ভাল কাজের জন্য উতসাহ প্রদান করার সামাজিক রীতী থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজে উল্টোটাই বেশি পরিলক্ষিত হয়, খারাপ কাজের জন্য পুরস্কৃত এবং ভাল কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়।
সঠিক পথে থাকার জন্য, তোমার নিজেকেই দায়িত্ব নিতে হবে, তোমার ভাল কাজের জন্য তোমার নিজেকে নিজেই পুরস্কৃত করতে হবে এবং ভাইস-ভার্সা।
দুনিয়াতে খারাপ পথে যাওয়া অনেক উপায় আছে, তবে ভাল পথে থাকার উপায় কিন্তু মাত্র একটাই, আর সেটা হচ্ছে খারাপ পথে না যাওয়া।
তোমার বন্ধুরাও তোমাকে সর্বদা খারাপ পথে আমন্ত্রণ জানাবে, যদিও তারা তোমার সত্যিকারের বন্ধু নয়, যে বন্ধুরা তোমার উন্নতির পথে বাধা দেয়, তোমার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাদের সঙ্গ ত্যাগ কর।
শুধুমাত্র এমন বন্ধুদের সাথে থাকো যারা তোমার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
তুমি যদি নিজের জীবনকে সুন্দর করার জন্য পদক্ষেপ নাও, তাহলে তুমি অন্যদের জীবনও সুন্দর করার জন্য প্রভাব ফেলতে পারবে, যদিও সেটা তুমি বুঝতে পারবে না। নিজের অজান্তেই ইতিবাচক শক্তি প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দিবে তুমি।
পরিবারে সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখো, তোমার ভাই অথবা বোনের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখো, তাদের অসুবিধা হলে সাহায্য কর, যদি সাহায্য করতে না পারো অন্তত স্বার্থপরের মত কাজ করিও না।
আজ থেকেই বাজে অভ্যাসগুলো ত্যাগ কর, ভাল অভ্যাসের দ্বারা সেগুলোকে প্রতিস্থাপন কর।
কিভাবে বুঝবে তোমার কিছু বাজে অভ্যাস রয়েছে, যে অভ্যাসগুলো তোমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় না, সেগুলোই বাজে অভ্যাস।
বাজে অভ্যাস গুলো ত্যাগ করতে সময় লাগবে, তবে এভাবেই তোমার জীবন সুন্দর হয়ে উঠবে।
তুমি যদি দুঃখ খোঁজ তাহলে শুধু দুঃখই পাবে, আর তুমি যদি সুখের সন্ধান কর তাহলে তুমি শুধু সুখই পাবে, এতটাই শক্তিশালী তোমার আকর্ষণ ক্ষমতা।
নিজে ভাল থাকো এবং অন্যকেও ভাল রাখো। কারণ যে নিজের জন্য নিরাপদ নয় সে অন্যদের জন্যেও নিরাপদ হতে পারে না।
তুমি যখন নিজের জন্য কিছু করতে পারবে, নিজের চাহিদা গুলো নিজেই মেটাতে পারবে, তখন তুমি অন্যের জন্যেও কিছু করতে পারবে।
তাছাড়া অন্যের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেও আনন্দ রয়েছে। এই আনন্দ তোমাকে মানসিক প্রশান্তি দান করবে।
