নিয়তির নিষ্ঠুর খেলা

জমিদারবাড়ি

ময়মনসিংহ শহর থেকে অনেক দূরে, প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা কালীপুর নামের এক গ্রাম, যার শান্ত রূপটি কেবলই একটি মুখোশ। বাইরে থেকে দেখলে একে দশটা সাধারণ গ্রামের মতোই মনে হয়। সবুজে ঘেরা ধানক্ষেত, তিরতির করে বয়ে চলা ক্ষণস্রোতা নদী, আর নির্জন পথঘাট। কিন্তু এই সরলতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর অন্ধকার ইতিহাস, যার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরোনো, পরিত্যক্ত জমিদারবাড়ি। প্রায় একশো বছর ধরে সে তার বুকে চেপে রেখেছে শত শত মানুষের আর্তনাদ আর রক্তক্ষরণের ইতিহাস।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা এই বাড়িটিকে তাদের ক্যাম্প বানিয়েছিল। গ্রামের মেয়েদের তুলে এনে এখানে ধর্ষন করা হতো। প্রতিদিন সেই বাড়ি থেকে মেয়েদের বিকৃত ও ক্ষত-বিক্ষত দেহ নদীতে ভেসে যেত। লোকমুখে আজও শোনা যায়, রাতের অন্ধকারে সেই প্রকোষ্ঠে কিছু অশুভ আত্মা ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

সুস্মিতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী, তার জীবনের একটি বড় অংশ জড়িয়ে আছে এই কালীপুরের সঙ্গে। শৈশবের এক ভুল মুহূর্তে সে এই জমিদারবাড়ির চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়েছিল, আর তারপর যা ঘটেছিল, তা আজও তাকে মানসিক পীড়া দিয়ে বেড়ায়। সুস্মিতার জীবন এক দুঃস্বপ্নের ঘোরে আটকে আছে। সে প্রায়শই অশুভ আত্মাদের দেখতে পায়, তাদের ফিসফিসানি শুনতে পায়। কখনো কখনো তার মনে হয়, এই ভয়াবহ জীবন থেকে যদি চিরতরে মুক্তি পাওয়া যেত।

সুস্মিতার একমাত্র ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মারজিয়া। একই ডিপার্টমেন্টে পড়ে তারা। মারজিয়ার একটা বিশেষ গুণ আছে, সে পশু-পাখির সঙ্গে এক ধরনের শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে। সে জানে না কীভাবে এটা হয়, তবে তার ডাক শুনে পশু-পাখিরা ছুটে আসে, আবার নির্দেশ দিলে চলে যায়। এই দক্ষতাটি সে শিখেছিল ছোটবেলায়, যখন তার বাবার একটা খামার ছিল, তখন সে একা একা খামারের হাঁস, মুরগি এবং পশুগুলোর সাথে শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতো। 

একদিন সুস্মিতা তার শৈশবের সব দুঃস্বপ্ন মারজিয়ার কাছে খুলে বলে। সুস্মিতা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, সেই জমিদারবাড়িতে অস্বাভাবিক আত্মারা বাস করে, যারা সুস্মিতাকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়, আর তাদের কথা না শুনলে রাতে সুস্মিতাকে তারা কষ্ট দেয়।  মারজিয়া সবকিছু শুনে ব্যথিত হয় এবং তার মনে হয়, সুস্মিতার এই ভয়গুলো শৈশবের কোনো ট্রমা থেকে এসেছে, আর তার কল্পিত ভূতগুলোই হয়তো তাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। মানুষ বাস্তবের চেয়ে কল্পানায় বেশি কষ্ট পায়।

মারজিয়া একদিন সুস্মিতাকে নিয়ে কালীপুরে বেড়াতে যায়। মারজিয়ার উদ্দেশ্য ছিল, সুস্মিতাকে জমিদারবাড়ি ঘুরিয়ে দেখিয়ে তার ভয় কিছুটা কাটিয়ে তোলা। তার ধারণা ছিল, বাস্তবতার সঙ্গে মুখোমুখি হলে সুস্মিতার মানসিক চাপ কমবে। কিন্তু সুস্মিতার ভেতরে ওলটপালট হয়ে যাচ্ছিল সব। যদিও তা বাইরে থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই। সে গোপনে একটি ধারালো ছুরি নিজের কাছে রেখে দেয়। তাকে যেন কোনো গায়েবি কণ্ঠস্বর নির্দেশনা দিচ্ছে।

তারা দুজন জমিদারবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। সবকিছু ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎই তারা দেখতে পায় এক অস্বাভাবিক দৃশ্য। করিডরে একটি কালো ছাগল পালিয়ে যেতে চাচ্ছে, কিন্তু ছাগলটি বাঁধা খুঁটিতে, পাশে এক মহিলা রান্না করছে, আরেকজন লুঙ্গি পরা পুরুষ গাছের বাকল দিয়ে দড়ি বানাচ্ছে। বাইরে ঝোলানো কাপড় বাতাসে দুলছে। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরে একটি সাধারণ পরিবার বাস করে। তারা বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখে। একসময় মারজিয়া খেয়াল করে, সুস্মিতা তার পাশে নেই। কিছুটা চিন্তিত হয়ে সে তাকে খুঁজতে শুরু করে।

হঠাৎ মারজিয়া শুনতে পায় কান্নার শব্দ, স্পষ্টতই সুস্মিতার গলা। দৌড়ে গিয়ে সে যে দৃশ্য দেখে, তাতে তার শরীরের রক্ত হিম হয়ে আসে। সুস্মিতার সারা শরীর রক্তে ভেজা। তার পাশে পড়ে আছে লুঙ্গি পরা লোকটির লাশ, আর শাড়ি পরা মহিলার লাশ। সুস্মিতা নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে তাদের হত্যা করেছে। মারজিয়াকে দেখে কাঁদতে কাঁদতে সুস্মিতা বলে, "এরাই তারা... আমি আমার প্রতিশোধ নিয়েছি"।

এই ঘটনা দেখে মারজিয়ার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সুস্মিতার দিকে আঙুল তুলে সে চিৎকার করে ওঠে, "তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? তুই একটা সাইকো"। চোখের জল আর রাগ মিশিয়ে সে বলে, "তোকে এখানে নিয়ে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে"। মারজিয়া সাথে সাথে আবার বুঝতে পারে এই মুহুর্তে তার এসব বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু মারজিয়ার কথা শেষ হতে না হতেই সুস্মিতা নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়।

মারজিয়া হতভম্ব হয়ে যায়। কী করবে কিছুই বুঝতে পারে না। পালাতে চায়, আবার এমন অবস্থায় সুস্মিতাকে ফেলে যেতেও পারে না। মারজিয়া যখন সুস্মিতার দিকে ছুটে যায়, তার হাত সুস্মিতার উষ্ণ রক্তে ভিজে যায়। 

ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু লোক সেখানে আসে। এদের প্রত্যেকের মাথায় সাদা পাগড়ি, চোখে কালো চশমা এবং সাদা পাঞ্জাবি পরা। তারা মারজিয়ার হাত বেঁধে ফেলে, চুল ধরে টেনে নিয়ে যায়। বাড়ির ঝোপঝাড়ের ভেতর একটি গোপন দরজা খুলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামায়। যাওয়ার পথে মারজিয়া দেখতে পায় বিভিন্ন ঘরে অনেক মেয়েকে উলঙ্গ করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাদের চোখ বাঁধা, শরীর ক্ষতবিক্ষত, কারো মাথায় চুল নেই, শরীরের হাড্ডি দেখা যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে মারজিয়ার মনে হয়, সুস্মিতার কথাগুলো আসলে সত্যি ছিল। এই অন্ধকার বাড়িটি আসলে এক নরক।

মারজিয়াকে টেনে-হিঁচড়ে একটি অন্ধকার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেল নাম্বার-০৭। প্রথমে এরা মারজিয়াকে ধরে রেজার দিয়ে মাথার সব চুল কেটে ফেলে। মার্জিয়া প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। তারপর আরেকটা লোক আসে। তার হাতে একটি চাবুক। লোকটির চোখে-মুখে ঘৃণার ছাপ। সে নির্মমভাবে মারজিয়াকে চাবুক দিয়ে আঘাত করতে থাকে। প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে মারজিয়ার শরীর থেকে রক্ত ঝরতে থাকে, যন্ত্রণায় তার চিৎকার সেখানে প্রতিধ্বনিত হয়। একটা সময় সে অচেতন হয়ে পড়ে যায়।

রাত কেটে যায়, সকাল হয়, কিন্তু এখানে কিছুই বুঝা যায় না। মার্জিয়া ফ্লোরে পড়ে ছিল বিদ্ধস্থ অবস্থায়। তারপর দেখে এক বয়স্ক ডাক্তার এসেছে তার সেলে। তিনি মারজিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। মারজিয়া তার কাছে সাহায্য চায়, কিন্তু লোকটি কোনো কথা না বলে নীরবে তার কাজ শেষ করে চলে যায়।

লোকটি চলে যাওয়ার পর এক মহিলা পচা-বাসি খাবার নিয়ে আসে। খাবারগুলো দেখে মারজিয়ার বমি পায়। মারজিয়া যখন খেতে চায় না, তখন মহিলাটি তার মাথায় পচা খাবার ঢেলে দেয়। পরমুহূর্তে আরেকটি বালতিভর্তি ময়লা পানি এনে মারজিয়ার সারা গায়ে ঢেলে দেয়। ঘৃণায়, অপমানে মারজিয়া অস্থির হয়ে ওঠে।

দুই একদিন পর সেই মহিলা আবার আসে, সঙ্গে পচা খাবার। এবার সে মারজিয়াকে পরিষ্কার করে, শরীর মুছে দেয়। কিন্তু খাবারটা সে মাটিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। মারজিয়া তখন ক্ষুধায় দিশেহারা। নিরুপায় হয়ে সে মাটি থেকে সেই পচা খাবার তুলে খায়। অল্প একটু খাওয়ার পরই সে কেঁদে ফেলে। তার মনে পড়ে মায়ের কথা, মায়ের তৈরি করা ভালো ভালো খাবারের কথা, যা সে অবহেলায় নষ্ট করেছে। তার মনে হয়, এই জীবন থেকে তার আর কোনো চাওয়া নেই, যদি শুধু সে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারত।

এভাবে বন্দী অবস্থায় দিন কাটতে থাকে, আর মারজিয়ার শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। একদিন মহিলাটি সেলে এসে মারজিয়াকে একটি ঢিলেঢালা পাতলা পোশাক পরিয়ে দেয়। এই পোশাকে মারজিয়ার পুরো শরীর ঢাকা পড়ে যায়। তারপর মারজিয়াকে বের করে ৫০১ নাম্বার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক রহস্যময় লোক বসে ছিল। অন্যরা তাকে "জনি ভাই" বলে সম্বোধন করে। লোকটি মারজিয়াকে জানায় তারা সমাজ থেকে পাপ মোচন করার একটি মিশনে নেমেছে। লোকটি মনে করে যারা পশ্চিমা সংস্কৃতি ধারণ করে তারা অসুস্থ, তাই তাদের এখানে বন্ধী করে শাস্তি দেওয়া হয়। আর যদি কেউ এই জমিদারবাড়ির ভিতরে ভুলেও ঢুকে পড়ে তাহলে তাকেও এখানে বন্দি করে রাখা হয়। কারণ এটি একটি গোপন জায়গা। তারা চায়না এই জায়গাটির তথ্য বাইরে ফাঁস হয়ে যাক। মারজিয়া বুঝতে পারে, এদের হাত থেকে তার রক্ষা নেই। সে সুস্মিতার কথা ভাবে, এবং তার ভেতর থেকে এক নতুন শক্তি জন্ম নেয়।

পরের দিন মারজিয়াকে চোখ বেঁধে জঙ্গলের ভেতর একটি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি খুঁটিতে তাকে বেঁধে রাখা হয়। যখন তার চোখ খুলে দেওয়া হয়, সে দেখে, চারপাশে মাথায় সাদা পাগড়ি পরা লোকগুলো মশাল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তার চারপাশে শুকনা কাঠ আর লাকড়ি স্তূপ করা হয়েছে। মারজিয়া বুঝতে পারে, তাকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা মশাল নিয়ে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে। একজন এসে লাকড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে মারজিয়ার চারপাশ থেকে আগুন জ্বলে উঠে। মারজিয়া আকাশের দিকে তাকায়, দেখে মেঘ জমছে। সে তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বনের সকল পশু-পাখিকে ডাকে।  

হঠাত আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামা শুরু হয়। হাজার হাজার বন্য শেয়াল আর বিভিন্ন পশু-পাখি ছুটে আসে। পাখিগুলো উপর থেকে পাথর ছুঁড়ে দেয়, আর শেয়ালগুলো পাগড়িওয়ালা লোকগুলোকে কামড়ে তাদের পাছার মাংস তুলে ফেলে, নাক-মুখ ছিঁড়ে ফেলে। লোকগুলো পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। হঠাৎ সব থেমে যায়। মারজিয়া দেখে, তার বাঁধন খুলে গেছে। বনের পশুগুলো তাকে গ্রাম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যায়।

গ্রামে এক বৃদ্ধা মহিলা তাকে আশ্রয় দেন। মারজিয়াকে একটি রুমে বিশ্রাম করতে বলেন মহিলা। মারজিয়া কিছুটা শান্তি পায়। কিছুক্ষণ পর ঘরে কলিং বেল বাজে। মারজিয়া শুনতে পায়, মহিলার স্বামী এসেছে। মারজিয়া উঁকি দিয়ে দেখে, এই সেই ডাক্তার যাকে সে জমিদারবাড়িতে দেখেছিল। মারজিয়া রুম থেকে বেরিয়ে আসে। লোকটির আতঙ্কিত চেহারা দেখে মারজিয়া বুঝতে পারে, এই লোকটিও সেই চক্রের অংশ। মারজিয়া টেবিল থেকে একটি ছুরি নেয়। লোকটি মারজিয়ার কাছে ক্ষমা চায়, কিন্তু মারজিয়া কোনো কথা না বলে সোজা তার বুকে ছুরি চালিয়ে দেয়। লোকটি সেখানেই লুটিয়ে পড়ে। মারজিয়া এদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েও যেন শান্তি পায় না। তার মনে হয়, আরও অনেক অশুভ শক্তি এই সমাজের গভীরে লুকিয়ে আছে, যাদের মুখোশ উন্মোচন করা বাকি।

---০---

ইন্সাইট

জীবন সবসময় সহজ নয়, পৃথিবীও সব সময় দয়ালু নয়। এই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু জীবনের এই বন্ধুর পথেই লুকিয়ে আছে সাফল্যের ঠিকানা। এই পথে টিকে থাকতে হলে, প্রথমে নিজেকে চিনতে হবে এবং নিজের দায়িত্ব নিতে শিখতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার সমস্যার সমাধান অন্য কেউ করে দেবে না। তাই সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, নিজের জীবনের ভিত্তি শক্ত করা। এর মানে স্বার্থপর হওয়া নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়া এবং নিজেকে সফল ও সুখী করার চেষ্টা করা। কারণ, আপনি যখন নিজের জীবনকে সুন্দর করতে পারবেন, তখনই আপনি অন্যদের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন।

আমরা অনেকেই ভাগ্যের ওপর ভরসা করে বসে থাকি, কিন্তু সত্যি বলতে, ভাগ্যবান মানুষ খুব কমই হয়। অধিকাংশ মানুষের নিয়তি নির্ধারিত হয় তাদের নিজেদের কঠোর পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির ওপর। আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চাইলে ভাগ্যের অপেক্ষায় না থেকে নিজের অদম্য চেষ্টা আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগান। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন; কারণ, আপনার এই চেষ্টা থাকলে যেকোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। সফলতার প্রথম ধাপ হলো ব্যক্তিগত উন্নতি। নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন, কঠোর পরিশ্রম করুন এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন। এই কাজটি প্রথমে কঠিন মনে হলেও এটি আপনাকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে। মনে রাখবেন, আপনার সমস্যা একমাত্র আপনিই সমাধান করতে পারবেন। অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা আপনাকে দুর্বল করে দেয়। আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই রাখুন।

নিজের জীবনকে উন্নত করার পাশাপাশি অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি। পৃথিবীটা শুধু আপনার একার নয়। চারপাশে এমন অনেক দুঃখী মানুষ আছে যাদের কষ্ট বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন, তাদের পাশে দাঁড়ান। অন্যের দুঃখ বোঝার চেষ্টা করুন, তাদের কথা শুনুন। এতে আপনার মন বড় হবে এবং আপনি অন্যদের জীবনের লড়াইকে সম্মান করতে পারবেন। সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন, কারণ সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়।

মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অহংকার। এটি আপনাকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং নতুন কিছু শেখার পথে বাধা তৈরি করে। জীবনের আসল মূল্য টাকা বা ক্ষমতা দিয়ে মাপা যায় না। জীবনের আসল সম্পদ হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং ভালো সম্পর্ক। কাউকে ঘৃণা করে নিজের মনে বিষ জমিয়ে রাখবেন না। ঘৃণা কেবল আপনার নিজেরই ক্ষতি করে। তাই ভালোবাসতে শিখুন, ক্ষমা করতে শিখুন। বিষাক্ত মানুষদের থেকে দূরে থাকুন, যারা শুধু আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করে। প্রকৃতির সৌন্দর্য অনুভব করুন, পশুপাখিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। এই সাধারণ আকাশ, বাতাস এবং মাটিই আপনার জন্য যথেষ্ট।

জীবন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এখানে শেখার কোনো শেষ নেই। প্রতিটি মুহূর্তই একটি নতুন সুযোগ নিয়ে আসে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারে, ভালো বা খারাপ যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। তাই সবসময় শেখার জন্য মনকে উন্মুক্ত রাখুন। নিজের ভুল থেকে শিখুন, ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়ান এবং নতুন করে শুরু করার সাহস রাখুন। জীবনের এই যাত্রায় ধৈর্য ধারণ করা খুব জরুরি। সাফল্য রাতারাতি আসে না, এর জন্য প্রয়োজন নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ধৈর্য। হয়তো আজ আপনার জীবন অনেক কঠিন মনে হচ্ছে, কিন্তু মনে রাখবেন, একদিন ঠিকই আপনার জীবন সুন্দর হবে। সেই সুখের জন্য আপনি নিজেই হবেন মূল কারিগর।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url