তোমার আচরণই তোমার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে

শুধুমাত্র ট্যালেন্ট থাকলেই স্বউন্নতি ঘটেনা, অন্যদের প্রতি তোমার আচরণও স্বউন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্যালেন্ট এর পাশাপাশি তোমাকে সদাচরণের কৌশল জানতে হবে। অন্যদের সন্মান করা, নিরহঙ্কার মনোভাব, এবং সততা ইত্যাদি গুণাবলি তোমাকে জীবনে এত বেশি অর্জন করতে সহায়তা করবে যা তোমার কল্পনারও অতীত।

তুমি কিভাবে একজন মানুষকে সম্মান দিতে পারো। খুবই সহজ। একজন মানুষ যেরকম, কোন রকম বিচার না করে, তাকে ঠিক সেভাবে গ্রহণ করাই হচ্ছে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তাকে শুভেচ্ছার সাথে গ্রহণ করাই হচ্ছে তাকে সম্মান করা। এটা কিন্তু খুব কঠিন কোন কাজ না। তুমি শুধুমাত্রা শুভ সকাল অথবা সালাম দেওয়ার মাধ্যমেই একজন মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করতে পারো।

তুমি একটা জিনিস ভেবে দেখ, পৃথিবীতে প্রায় আটশ কোটি মানুষ আছে, এবং তাদের প্রত্যকেরই চিন্তা ভাবনা আলাদা আলাদা, একেক জনের চিন্তা আরেকজনের সাথে মিলে না, যদিও তারা একই সাথে বসবাস করে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধ্যান ধারণা রয়েছে। প্রত্যেক ব্যাক্তিই আলদা আলাদা জীবন যাপন করে। এরা সকলেই তাদের নিজস্ব ধ্যান ধারণা এবং জীবন পদ্ধিতিতে অভ্যস্ত। তুমি চাইলে খুব সহজেই এদের চিন্তা ভাবনা পাল্টাতে পারবে না। তোমার কাছে মনে হতে পারে তোমার জীবন পদ্ধতি তাদের চেয়ে ভাল, তুমি হয়তো চাও তারা যেন তোমার আইডিয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়। তুমি হয়তো এটি তাদের ভালোর জন্যেই চাও। কিন্তু এটা বিপদজনক হতে পারে। সবার সাথে তোমার চিন্তা ভাবনা মিলবে না। এবং এটাই স্বাভাবিক। তোমার আইডিয়া পুরো পৃথিবীর উপর চাপিয়ে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। এবং অন্য সবার সাথে তোমার একমত পোষণ করতে হবে এমন কোন কথা নেই। 

তবে তুমি সবার কথাই শুনবে, সব ধরনের মানুষের জীবন যাপন সম্পর্কে জানবে, তাদের আইডিয়াগুলো থেকে ভাল কিছু অনুসন্ধান করবে। যদি সেখান থেকে কোন আইডিয়া তোমার কাছে ভাল লাগে তাহলে সেটা তুমি গ্রহণ করতে পারো, আর যদি তোমার পছন্দ না হয় তাহলে সেগুলো গ্রহণ করবে না। সহজ হিসাব। সব কিছু সম্পর্কে আইডিয়া রাখারা প্রয়োজন আছে যাতে তুমি ভাল এবং খারাপের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে পারো। তুমি যত জানবে তত বেশি তোমার জ্ঞানের ভাণ্ডার বৃদ্ধি পাবে। জানার কোন শেষ নাই, তাই অলওয়েজ নতুন কিছু জানার চেষ্টা কর, জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াটিকে কখনো থামিয়ে দিবে না, কারণ জ্ঞান তোমার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে।

তুমি নিজেকে যতটা ইম্পর্ট্যান্ট ভাবো আসলে তুমি ততটা ইম্পর্ট্যান্ট না। আমাদের চারপাশের মানুষ এবং পরিবেশ আমাদের নিজেকে অনেক গুরুত্বপূর্ন ভাবতে একটা ইল্যুশন তৈরি করে। কিন্তু যখন তুমি নিজের ক্ষুদ্রতা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হবে তখনই তোমার ভিতর থেকে সকল অহংকার দূর হয়ে যাবে। তুমি বুঝতে পারবে তোমার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার কোন অধিকার নেই। নিরহঙ্কার ব্যাক্তি নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন। নিরহঙ্কার ব্যাক্তি মাত্রই বিনয়ী। বিনয় তোমাকে জিবনে টিকে থকার সুবিধা দিবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। একটা কথা সবসময় মনে রাখবে, কারণ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, জিবনে যেকোন অবস্থায় থাকোনা কেন, কখনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলবে না, এমনকি যখন তুমি শ্বাস নিচ্ছ তখনও নিজেকে মনে মনে বল, এই যে আমি শ্বাস নিলাম এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। 

তুমি আজ এই পর্যন্ত এসেছ তার জন্য নিজেকে শুভেচ্ছা জানাও, তোমার অতীতের অর্জনগুলোর কথা ভেবে নিজেকে ধন্যবাদ জানাও, নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। কৃতজ্ঞতা হচ্ছে সুখি মানুষের গোপন রহস্য। কৃতজ্ঞতাই তোমাকে সুখি মানুষে পরিণত করবে। একজন কৃতজ্ঞ ব্যাক্তি অন্যদের চেয়ে বেশি সুখি অনুভব করে। কারণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমনের নিঃসরণ ঘটে। একজন সুখি মানুষের কাছে জীবন সুন্দর। যখন একজন মানুষের কাছে জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে তখন অন্য সব কিছুও সুন্দর মনে হয়। তখন তার জন্য জিবনের বাধা বিপত্তিগুলো অতিক্রম করা সহজ হয় এবং আরও বেশি অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে একজন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির জীবন হতাশা এবং দুর্দশাময় হয়ে ওঠে। তুমি শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্যেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। এভাবেই তোমার জিবনের মোড় উন্নতির দিকে ঘুরতে শুরু করবে। 

লক্ষ্য করলে দেখবে, খারাপ মানুষদের মধ্যে যেমন ধার্মিক লোক আছে, তেমনি নাস্তিকদের মধ্যেও ভাল মানুষ আছে। তুমি দেখবে একশনজন ঘুষখোর লোকের মধ্যে সম্ভবত ৯৯ জনই নিয়মিত নামাজ আদায় করে অথবা অন্তত জুমার নামাজ পড়ে। এইখানে একজন লোক ধার্মিক হয়েও নৈতিক হতে পারেনি। অন্যদিকে একজন নাস্তিক হয়েও নৈতিকভাবে সৎ হতে পারে। আবার একজন ব্যক্তির অনেক সম্পদ থাকতে পারে, অঢলে পরিমাণে টাকা থাকতে পারে, কিন্তু খবর নিয়ে দেখ তাদের পরিবারে সুখ নাই, দাম্পত্য জিবনে কলহ লেগেই আছে, পরকীয়া, ছেলে মেয়েরাও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে কোন রকম চলার মত ইনকাম করেও অনেকেই পারিবারিক সুখি জীবন যাপন করছে। এখানে আসলে পুরো ব্যাপারটাই আপেক্ষিক। তুমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না কে সঠিক পথে আছে আর কে ভুল পথে আছে। তুমি কোন পথে থাকবে এটা নির্ভর করে সম্পূর্ন তোমার নিজের উপর। তুমি যদি চাও তোমার জিবনের হাল ধরতে, নিজের জীবনকে সুন্দর করতে তাহলে তুমি সেটি করতে পারবে। তোমার নিজের জীবনকে সুন্দর করা এটি একান্তই তোমার নিজের দায়িত্ব।

তুমি হয়তো লটারির টিকেট জিতে অথবা জুয়া খেলে একদিনে অনেক বড়লোক হয়ে যেতে পারো। অনেকেই তোমাকে সম্মান করবে, তোমাকে তাদের মিথ্যা সম্মান জানাবে, তোমার থেকে সুবিধা নিতে চাইবে, তুমি মিথ্যা জেনেও তাদের এড়িয়ে যেতে পারবে না, কারণ মিথ্যা হলেও এতে হয়তো তুমি আনন্দ পাবে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে সৎ উপর্জন ছাড়া তোমার সম্পদের কোন মূল্য নাই। তুমি যত বড় কেউ হও না কেন, তুমি যত বড় ক্ষমতাধর হও না কেন, তুমি যদি তা সৎ উপায়ে অর্জন না কর, তাহলে সেগুলোর কোন মূল্য নেই। আর যেখানে তোমার মূল্য নাই সেখানে যত পরিশ্রম কর না কেন, এতে সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়, এটি একটি জঘন্য লাইফস্টাইল যা বয়ে বেড়ানো বেশ কষ্টকর।

তুমি সৎ কিনা সঠিক পথে আছও কিনা সেটি কিভাবে বুঝবে, একা থাকার সময় তুমি যেভাবে থাকো, যা কিছু কর সেটিই হচ্ছে তোমার প্রকৃত রূপ, তুমি না চাইলেও এটি একদিন না একদিন অন্যদের নিকট প্রকাশ পাবেই।

তুমি ভাল হলে ভাল, আর খারপা হলে অন্যেদের নিকট তোমার খারাপ আচরণই প্রকাশ পাবে। কিছু জিনিস থাকে যেগুলো তুমি লুকাতে পারবে না। তাই নিজেকে বুঝার জন্য নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য তোমার অন্যদের নিকট যাওয়ার প্রয়োজন আছে, এতে তোমার বাজে অভ্যাসগুলো অথবা ভাল গুণগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।

তুমি যদি সত্যিকার অর্থেই সফল হতে চাও, তাহলে প্রথমেই মাথা থেকে অবৈধ পথে সফল হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে দাও। তুমি যা অর্জন করতে চাও তা পেতে চাইলে তোমাকে পরিশ্রম করতে হবে, তার জন্য সময় দিতে হবে, ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকতে হবে। এটাই হচ্ছে সফলতার একমাত্র সিক্রেট। 

যখন তুমি সফল হবে এবং একই সাথে তুমি একজন সৎ ব্যক্তি তখনই তুমি সত্যিকার অর্থে একজন সুখি মানুষে পরিণত হবে, তুমি মানসিক শান্তি পাবে। সততাই তোমার সফলতার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে। যেকোন মূল্যে নিজের সততাকে বিসর্জন দিবে না, এমনকি যখন তুমি সাফার করছ তখনও। সততা তোমাকে একদিন পুরস্কৃত করবেই।

পুরনো একটা কথা প্রচলিত আছে, রাজ্য পরিচালনা করার চেয়ে নিজেকে পরিচালনা করা বেশি কঠিন। এটা সবসময়ই সত্য। কারণ মানুষ অনেক জটিল একটা প্রাণী। আমারা চিন্তা করতে পারি। আমাদের চিন্তাগুলো আমাদের নিয়ন্ত্র করে। কিন্তু তোমাকে তোমার চিন্তাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। স্বউন্নতি করা খুব সহজ কোন কাজ নয়। এর জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। কোন কিছু অর্জন করতে চাইলে ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকতে হবে। তোমার একটি লক্ষ্য থাকতে হবে। একটি বিল্ডিং তৈরি করার জন্য যেমন পরিকল্পনা করতে হয়, কাজ করতে হয়। তেমনি নিজেকে তৈরি করার জন্য তোমাকে একটি পরিকল্পনা করতে হবে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে হবে। যখন তুমি স্বউন্নতির জন্য কাজে লেগে পড়বে, চেষ্টা চালিয়ে যাবে, তখন তুমি নিজেই উপলব্দি করতে পারবে যে তোমার জীবন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর হয়ে উঠছে। পৃথিবীটা অনেক সুন্দর, তুমি চাইলে এখানেই স্বর্গ রচনা করতে পারো, তুমি চাইলে এখানেই স্বর্গীয় সুখ পেতে পারো, এমনকি যখন অন্য সবাই নরকে বসবাস করছে তখনও।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url