একা সঠিক হওয়ার চেয়ে একসাথে সুখে থাকা জরুরি
আমাদের প্রত্যেকের কিছু মৌলিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনা রয়েছে। প্রত্যকের জীবনে চলার পথে এগুলো গুরত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। কেউ যখন আমাদের বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলে তখন আমরা সেন্সেটিভ আচরণ করি। আমরা নিজের ধারণাটিকে সঠিক মনে করি এবং আশাকরি শুভবুদ্ধির উদয় হলে অন্যরাও আমাদের সাথে একমত পোষণ করবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে আমাদের এমন মানুষদের সাথে উঠাবসা করতে হয় যারা আমাদের বিশ্বাসে বিশ্বাসী নয়।
অনেক সময় আড্ডায় রাজনৈতিক, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে। কোন কোন সময় আলোচনা থেকে এগুলো তর্কবিতর্কে পরিণত হয়। তর্কে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না, যদিও সে ভুল হয় তবুও সে কোন না কোন উপায়ে প্রতিপক্ষকে হেয় করার চেষ্টা করবে। তর্কে যে জিতুক না কেন দেখা যায় ফলাফল ভাল কিছু বয়ে নিয়ে আসে না, বরং তর্কবিতর্ক থেকে রাগ, ক্ষোভ, দন্ধ ইত্যাদি নেতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়।
নিজের বিশ্বাস ডিফেন্ড করার বদলে, আমাদের নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করা উচিৎ, অন্যের অনুভূতিতে আঘাত করে, অন্যের মনে কষ্ট দিয়ে আমাদের সার্থকতা কোথায়? তর্কে জিতার চেয়ে আমাদের সামনের মানুষটির প্রতি বেশি যত্নশীল হওয়া উচিৎ নয় কি? একা সঠিক হওয়ার চেয়ে অন্যদের সাথে মিলেমিশে আনন্দে সময় কাটানো উত্তম নয় কি?
আমাদের নিজেদের বিশ্বাস অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মূলত আমাদের অহমিকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। এতে আমরা সফল হলেও আমাদের অহমিকা সন্তুষ্ট হয় না, আরও নতুন নতুন ঝামেলার তৈরি করে, তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ার তাগিদ অনুভব করে, এতে করে মানুষের সাথে আমরা দন্ধে জড়িয়ে পড়ি।
অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা ম্যাচিউড় হয়ে উঠি। ম্যাচিউড় হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে নিজের জ্ঞান নিয়ে অহংকার না করা এবং অহমিকার বাইরেও যে একটি বিশাল জগত রয়েছে সেটি অনুভব করা।
সর্বপরি, অন্যের সমালোচনা করার মাধ্যমে নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না, নিজের বিশ্বাস অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না, একা সঠিক হওয়ার বদলে সবার সাথে মিলেমিশে ভাল সময় কাটানোর চেষ্টা করুন, উন্মুক্ত হৃদয়ে বন্ধুদের গ্রহণ করতে শিখুন। এতে আপনি ভাল থাকবেন অন্যদের পছন্দের পাত্র হয়ে উঠবেন।
