ইন্টারস্টেলার মুভি রিভিউ

Interstellar movie scene

ইন্টারস্টেলার

এস্ট্রনমি নিয়ে সাইন্সফিকশন মুভির জগতে এখন পর্যন্ত আমার লাইফে দেখা সবচেয়ে সেরা মুভি ইন্টারস্টেলার। মুভিটি আমি বেশ কয়েকবার দেখেছি। মজার ব্যাপার হচ্ছে মুভিটি আমি যতবারই দেখিনা কেন মনে হয় যেন এই প্রথমবার দেখছি। যতবারই দেখি নতুন করে কিছু আবিষ্কার করি।

ইন্টারস্টেলার মুভিতে কিছু অদ্ভুত ঘটনা দেখানো হয়। যেগুলো একজন সাধারণ মানুষের কাছে অবাস্তব মনে হতে পারে। যেমন ইন্টারস্টেলার মুভিতে বাবা কুপার তার মেয়ে মার্ফকে রেখে মহাকাশে যাত্রা করে। কুপার ফিরে এসে দেখে তার মেয়ে মার্ফ এর বয়স তার চেয়েও বেশি হয়ে যায়। আমি যখন প্রথম মুভিটা দেখি এই জিনিসটা কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। মানে এটা কিভাবে সম্ভব পিতার চেয়েও কন্যার বয়স বেড়ে যাওয়া আমি অনেকটা কনফিউজড হয়ে যাই। অবাস্তব একটা বেপার। তাই না? 

কিন্তু এটি আসলেই বাস্তবে সম্ভব। যখন কেউ মহাকাশে ভ্রমণ করে কিংবা আলোর গতিতে ছুটে চলে তখন তার জন্যে সময় স্লো হয়ে যায়। ফলে পৃথিবীতে থাকা একজন মানুষের সাপেক্ষে মহাকাশে ভ্রমণকারী ব্যাক্তিটির বয়স কমে যায়।

আইনস্টাইনের থিওরি অব রিল্যাটিভিটি অনুযায়ী কোন বস্তু যখন গতিশিল থাকে তখন তার জন্য সময় স্লো বা ধীর গতিতে প্রভাহিত হয়। বস্তুর গতি যত বৃদ্ধি পেতে থাকবে বস্তুর সময় তত স্লো হতে থাকবে। এবং এই বিষয়টি কিন্তু বিজ্ঞানীরা পরিক্ষা করে সত্যতা পেয়েছেন। সুতরাং সময় সবার জন্য সমান নয়। অবস্থার উপর সময় ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে।

তাই বাবার চেয়ে কন্যার বয়স বেশি হওয়া সম্ভব। ইন্টারস্টেলার মুভিতে কুপারকে মহাকাশে এমন একটি গ্রহে যাত্রা করতে হয় যেখানে কাটানো এক ঘন্টা ছিল পৃথিবীতে কাটানো সাত ঘন্টার সমান কারন গ্রহটির গ্র‍্যাভিটি অনেক বেশি ছিল। ফলে সেখানে সময় প্রভাহ পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি স্লো ছিল। যার কারনে গ্রহটির এক ঘন্টা পৃথিবীর ৭ বছরের সমান ছিল। কুপার সেই গ্রহে প্রাই তিন ঘন্টা সময় অতিবাহিত করে। এবং এই তিন ঘন্টার ফলে পৃথিবীতে কেটে যায় প্রায় ২১ বছর। যার ফলে কুপারের মেয়ের বয়স বেড়ে যায় ২১ বছর। কিন্তু কুপারের বয়স বাড়ে মাত্র তিন ঘন্টা। কুপার যখন মহাকাশে কখনো ওয়ার্মহোল কখনো ফিফথ ডাইমেনশন কখনো ব্ল্যাকহোলের পাশে দিয়ে যাচ্ছিল তখন গ্র্যাভিটির কারণে তার জন্য সময় স্লো হয়ে যাচ্ছিল। ফলে পৃথিবীতে থাকা তার মেয়ের বয়স তার চেয়েও বেশি হয়ে যায়। এটা আসলে এত সহজে বলে বুঝানো সম্ভব নয় বিষয়টি নিয়ে আপনাকে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে।

ইন্টারস্টেলার মুভির ডিরেক্টর ছিলেন আমার সবচেয়ে প্রিয় ফিল্মমেকার ক্রিস্টোফার নোলান যার সবগুলো মুভিই আমি দেখে ফেলছি। নোলানের টেনেট মুভিটাও অনেক জটিল টেনেট তিনবার দেখার পর মুভিটার সম্ভবত ৭০% বুঝতে পেরেছি। ইন্টারস্টেলার মুভিতে যারা অভিনয় করেছেন তাদের সবার অভিনয় খুবই ন্যাচারল ছিল এক কথায় অসধারন ছিল।

ইতিমধ্যে যারা ইন্টারস্টেলার মুভিটি দেখে ফেলেছেন আপনার কাছে মুভিটি কেমন লেগেছে এই পর্যন্ত আপনি মুভিটি কয়বার দেখেছেন তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url