আপনি যদি জানেন আপনি কী চান, তবে আপনি তা পেতে পারেন

It works

আমরা সবাই জীবনে সফল হতে চাই, নিজেদের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চাই। এর জন্য আমরা কত মোটা মোটা সেলফ-হেল্প বই পড়ি, সেমিনার করি, ভিডিও দেখি। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই এত তথ্যের ভিড়ে আমরা আসল কাজটাই শুরু করতে পারি না।

আজ আমি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব এমন একটি বইয়ের সাথে, যা গত প্রায় ১০০ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। বইটির নাম "It Works", অর্থাৎ - এটি কাজ করে।

১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই ছোট্ট লাল মলাটের বইটি লিখেছিলেন আর. এইচ. জ্যারেট। বইটির সবচেয়ে বড় চমক হলো এর আকার। এটি মাত্র ২০ থেকে ৩০ পৃষ্ঠার একটি বই, যা আপনি ১০ মিনিটেই পড়ে শেষ করতে পারবেন। কিন্তু এর ভেতরে থাকা ফর্মুলাটি অবিশ্বাস্য শক্তিশালী।

এই লেখায় আমরা জানব, কী আছে এই রহস্যময় ছোট্ট বইটিতে এবং কীভাবে এর সহজ তিনটি ধাপ আপনার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করতে পারে।

বইটির মূল দর্শন: সরলতাই শক্তি

"ইট ওয়ার্কস" বইটির জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো এর চরম সরলতা। লেখক মনে করেন, মানুষের মন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্র। যদি আমরা মনকে কোনো দ্বিধা বা সন্দেহ ছাড়া পরিষ্কার নির্দেশনা দিতে পারি, তবে আমাদের মন সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ খুঁজে বের করবেই।

আধুনিক যুগের হাজার পৃষ্ঠার মোটিভেশনাল বইয়ের মতো এতে কোনো জটিল থিওরি নেই। এটি সরাসরি কাজের কথায় আসে। লেখক দাবি করেন, আপনি যদি জানেন আপনি কী চান, তবে আপনি তা পেতে পারেন।

স্বপ্ন পূরণের ৩টি জাদুকরী ধাপ 

লেখকের মতে, আপনার চাওয়া পাওয়ার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য মাত্র তিনটি কাজ করতে হবে। আসুন দেখে নিই সেই ধাপগুলো:

১. একটি লিস্ট তৈরি করুন 

আপনার জীবনের চাওয়াগুলো নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করুন। আপনি কী কী চান? নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা, একটি স্বপ্নের চাকরি, সুস্বাস্থ্য, নাকি একটি সুন্দর সম্পর্ক?

টিপস: আপনার চাওয়াগুলো হতে হবে খুবই নির্দিষ্ট। শুধু "অনেক টাকা চাই" লিখবেন না, লিখুন "আমি আগামী এক বছরের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা সঞ্চয় করতে চাই"। তালিকাটি বারবার পরিবর্তন করুন যতক্ষণ না এটি আপনার মনের মতো হয়।

২. দিনে তিনবার পড়ুন 

আপনার তৈরি করা তালিকাটি আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে তিনবার পড়তে হবে।

  1. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই।
  2. দুপুরে খাওয়ার সময় বা বিশ্রামের সময়।
  3. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে।

৩. গোপন রাখুন: 

এটি এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন ধাপ। আপনার এই তালিকা বা আপনি এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করছেন, এই বিষয়ে কারো সাথে কোনো কথা বলবেন না।

কেন? কারণ যখন আপনি আপনার স্বপ্নের কথা অন্যদের বলেন, তখন তাদের সন্দেহ, নেতিবাচক মন্তব্য বা উপহাস আপনার মানসিক শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। এই গোপনীয়তা আপনার ফোকাস ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

এটি কেন কাজ করে? 

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, শুধু একটি তালিকা দিনে তিনবার পড়লেই কি সব পাওয়া সম্ভব? এর পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে:

ফোকাসের শক্তি: আমাদের মস্তিষ্কের একটি অংশ আছে যার নাম RAS। এটি আমাদের ঠিক সেই জিনিসগুলোই দেখায় যা আমরা দেখতে চাই। যখন আপনি দিনে তিনবার আপনার লক্ষ্যের তালিকা পড়ছেন, আপনি মূলত আপনার মস্তিষ্ককে নির্দেশ দিচ্ছেন ওই লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত সুযোগগুলো খুঁজে বের করার জন্য। আগে যে সুযোগগুলো আপনার চোখ এড়িয়ে যেত, এখন সেগুলো আপনার চোখে পড়বে।

মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি: ক্রমাগত পুনরাবৃত্তি এক ধরণের আত্ম-সম্মোহন হিসেবে কাজ করে। এটি আপনার অবচেতন মন থেকে "আমি পারব না" বা "এটা অসম্ভব" জাতীয় নেতিবাচক চিন্তা দূর করে "আমি কীভাবে এটি করব?" এই ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে।

চূড়ান্ত সতর্কতা: "কীভাবে" নিয়ে ভাববেন না

"ইট ওয়ার্কস" বইয়ের একটি গোল্ডেন নিয়ম আছে। আপনি যখন তালিকাটি তৈরি করবেন এবং পড়বেন, তখন আপনাকে শুধু ফোকাস করতে হবে আপনি "কী" চান তার ওপর।

জিনিসটা "কীভাবে" আপনার কাছে আসবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা আপনার কাজ নয়। লেখকের মতে, "কীভাবে" এর চিন্তা আপনার মনে সন্দেহের জন্ম দেয়, যা আপনার সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে। আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে রাস্তা ঠিকই তৈরি হবে।

উপসংহার

"ইট ওয়ার্কস" এটি কোনো জাদুর বই নয়, কিন্তু এটি আপনাকে আপনার নিজের মনের জাদুকরী শক্তি ব্যবহার করতে শেখায়। এটি আপনাকে অহেতুক চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়ে লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকতে সাহায্য করে।

বইটির নামই এর পরিচয়, এটি সত্যিই কাজ করে, যদি আপনি বিশ্বাস এবং নিষ্ঠার সাথে উপরে উল্লেখিত তিনটি সহজ ধাপ মেনে চলেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url